‘৫ আগস্টের মতো আনন্দ জীবনে আর কখনো পাব না’

জুলাইয়ের প্রামাণ্যচিত্র দেখতে রিকশা থামালেন রিকশাচালক মতিউর ইসলাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রামাণ্যচিত্র। এ সময় রিকশা থামিয়ে মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিনে দেখেন রিকশাচালক মতিউর ইসলাম।
আজ বুধবার সকাল থেকে প্রদর্শিত ওই প্রামাণ্যচিত্র দেখতে কৌতূহল নিয়ে থেমে যান আগারগাঁও তালতলার বাসিন্দা এই রিকশাচালক।
প্রামাণ্যচিত্র দেখা শেষে মতিউর ইসলাম জানালেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অনুভূতি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। সেদিনের সেই অনুভূতি আর ফিরে পাবেন কি না জানেন না। দুই বছর পূর্তিতে সেই দিনের স্মৃতি মনে পড়লেও তখনকার উচ্ছ্বাস ও আবেগ আর অনুভব করা যায় না।
স্মৃতিচারণ করে মতিউর ইসলাম বললেন, সেদিন আগারগাঁওয়ের সংসদ ভবনের কাছাকাছি অবস্থান করায় খবর পাওয়ার পরপরই রাস্তায় নেমে এসেছিলাম। চারদিকে ছিল মানুষের ঢল এবং বিজয়ের উচ্ছ্বাস।
গণভবন ও সংসদ ভবনে প্রবেশের স্মৃতি তুলে ধরে মতিউর ইসলাম বললেন, গণভবন সেদিন অনেকেই বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বের হচ্ছিলেন। তিনিও প্রায় ২০ কেজি পেঁয়াজ এনেছিলেন। জনগণের টাকায় কেনা সম্পদ জনগণেরই, এমন বিশ্বাস থেকেই মানুষ সেদিন আনন্দ প্রকাশ করেছিল।
জুলাইয়ের পুরো মাস রিকশা চালানোর সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের মতো নির্মম ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। ফলে ৫ আগস্টের পতনকে তার কাছে দেশের সব বয়সের মানুষের জন্য এক বিশাল উৎসবের মতো মনে হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতিউর ইসলাম জানিয়েছেন, বিশেষ দিবস হওয়ায় সকাল থেকে রাস্তায় যাত্রী কম। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ট্রিপ পেলেও এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন, বর্তমান সরকার মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।





