বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সমতার দাবিতে ঐক্য ফোরামের ১০ দাবি

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম’।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে দাবিগুলো তুলে ধরেন ফোরামের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে; কোনো আধিপত্য বা অসম সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেন পাশের দেশ কোনো কথা না বলে, সে বিষয়েও জোর দেন ফোরামের সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সহ-সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আগে থেকেই ভারত বাংলাদেশকে শোষণ করে আসছে। এখনো তারা শোষণ করার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা করার জন্যই বাংলাদেশের হাইকমিশন ঘেরাও করার মতো নিন্দনীয় কাজগুলো করছে।’
ফোরামের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দাবিগুলো হলো— ১. ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও জনগণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে সম্মান জানানো। ৩. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি গোয়েন্দা হস্তক্ষেপের নিরপেক্ষ তদন্ত করা। ৪. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থাপিত আন্তর্জাতিক হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানো। ৫. মণিপুরসহ ভারতের সব ধর্মীয় ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৬. দলিত, মুসলিম, খ্রিস্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতা বন্ধ করা। ৭. দলিত, মুসলিম ও আদিবাসীসহ সব বিচারহীন বন্দির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা। ৮. বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা এবং বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা। ৯. ভারতের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় ভারত সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১০. বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পরিচালনা করা।
লিখিত বক্তব্যে সুরঞ্জন ঘোষ বলেছেন, ‘আমাদের মূল দর্শন বিভেদ নয়, ঐক্য। ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’। সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন অভিমুখে উগ্র মিছিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সেইসঙ্গে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান।



