মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষে চার মামলা, আসামি ২ হাজার

ছবি : আশরাফুল আলম
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন এ তথ্য।
তিনি বলেছেন, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। তিন মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে কাফরুল থানায়ও পৃথক একটি মামলা হয়েছে। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গেলে এক্সকাভেটরের আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে হকার ও দোকানীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এ সময় ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। পরে দুপুরের দিকে ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।
মামলাগুলোর ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



