যানজটের শহর ফাঁকা পূজার ছুটিতে

গাড়ির দীর্ঘ সারি নেই, যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে না সাধারণ যাত্রীদের। ছবি: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেকটাই ভিন্ন চিত্র রাজধানীতে। ব্যস্ত সড়কে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি, মোড়ে মোড়ে নেই নিয়মিত যানজট। সড়কে গাড়ির চাপ কম থাকায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতেও সময় লাগছে কম। কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যাতায়াতের চাপ কমে আসায় রাজধানীর সড়কগুলোয় ফিরেছে স্বস্তি।
আজ বুধবার সরেজমিনে রাজধানীর শাহবাগ, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, সায়েন্সল্যাব ও সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় সড়কের দুই পাশে অনেক দোকানপাট বন্ধ ছিল। ফলে যানবাহন চলাচলে ছিল স্বাভাবিক গতি। কোথাও কোথাও সিগন্যালে কয়েকটি গাড়ি জমলেও অন্য দিনের মতো দীর্ঘ যানজট চোখে পড়েনি।
এবার দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি। টানা পাঁচ দিনের এই ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময় অধিকাংশ সরকারি অফিস ছাড়াও বন্ধ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে রাজধানীর নিয়মিত কর্মব্যস্ততা নেই। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সড়কে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াতও কম।
তবে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না থাকলেও কর্মস্থলে যাতায়াতে স্বস্তি পাচ্ছেন অনেক চাকরিজীবী। তেমনই একজন গণমাধ্যমকর্মী নাজমুস সাকিব রহমান। তিনি তাঁতিবাজার থেকে শাহবাগে যাচ্ছিলেন। জানালেন, ‘স্বাভাবিক দিনে এই পথে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। আজ সময় লেগেছে মাত্র ২৫ মিনিট। অন্য দিন গুলিস্তানের যানজটেই আধাঘণ্টার বেশি সময় চলে যায়। আজ গুলিস্তানে যানজটের মুখেই পড়তে হয়নি।’
সাইফুল ইসলাম নামে অপর এক যাত্রী বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা অনেক দোকান বন্ধ দেখতে পাচ্ছি। স্বাভাবিক সময়ে এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে। পণ্য ওঠা-নামার জন্য সড়কের পাশে রাখা হয় ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন। কখনো কখনো সেগুলো মূল সড়কে পর্যন্ত চলে আসে। এতে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।’
যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকরা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ কিছু যাত্রীর। তাদের মতে, বাসগুলো স্টপেজে কম সময় অপেক্ষা করলে যাতায়াতে আরও কম সময় লাগত
আজ গণপরিবহনে যাত্রীর চাপ কম ছিল। স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাসে আসন পূর্ণ হওয়ার পরও অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। তবে আজ বেশ কিছু বাসে আসন ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার চাপও ছিল না। ফলে বাসের ভেতরে গাদাগাদি করে যাতায়াতের ভোগান্তি কমেছে।
বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রী মো. তৌফিক ইমন বলেন, ‘গরমের মধ্যে অন্য সময় চাপাচাপি করে যেতে হয়। কিন্তু গতকাল থেকে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছি। অনেকটা ঈদের সময়ের মতো লাগছে, যখন ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে। এভাবে সারা বছর চলাচল করা গেলে ভালো হতো।’
তবে যাত্রী কম থাকলেও কিছু বাসকে বিভিন্ন স্টপেজে তুলনামূলক বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকরা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ কিছু যাত্রীর। তাদের মতে, বাসগুলো স্টপেজে কম সময় অপেক্ষা করলে যাতায়াতে আরও কম সময় লাগত।
শুধু সড়কেই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সাধারণ কর্মদিবসে যেসব এলাকায় মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকে, ছুটির কারণে সেসব স্থানেও ছিল অনেকটা নীরবতা।
পথচারী কাজী অভি বললেন, ‘এখন রাস্তা দেখতেই ভালো লাগছে। গাড়ির দীর্ঘ সারি নেই, যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে না। সারা বছর এমন থাকলে ভালো হতো। কিন্তু আগামী রবিবার থেকে সব প্রতিষ্ঠান খুললে আবার ভোগান্তি শুরু হবে।’
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। রমনা, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকেশ্বরী ও শাঁখারীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পূজার আয়োজন। সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকায় এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। ফলে মণ্ডপে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রেও স্বস্তি পাচ্ছেন তারা।
সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও স্বস্তি পেয়েছেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। কারওয়ান বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মো. সাগর আগামীর সময়কে বললেন, ‘ছুটির কারণে সড়কে গাড়ির চাপ অনেক কম। আগে সিগন্যালের সময় মেট্রোরেল স্টেশন ছাড়িয়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি চলে যেত। এখন সিগন্যাল পড়লে সেখানে মাত্র কয়েকটি গাড়ি জমা হচ্ছে। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা কম হচ্ছে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।’




