ছিনতাইকারীর কবলে নারীর প্রাণ হারানোর ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতীয় সংসদ এলাকায় ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে এক নারী শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন চক্রের মূল হোতা মো. মোশারফ হোসেন ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগী সেড্রিক।
আজ রবিবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নয়মুল হাসান।
নিহত রনজিনা পারভীন (৫৬) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তার স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন।
র্যাব বলছে, গ্রেপ্তার পনি গাজী পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চুরি, সিঁদেল চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে তেজগাঁও থানা পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে নেমে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরে মালিক রাকিবকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর হেফাজতে ছিল। তিনি একটি ওয়ার্কশপের মালিক। আর গ্রেপ্তার পনি গাজী ছিল এলাকার বড় ভাই। বিভিন্ন সময় পনি হুমকি দিয়ে তার (রাকিবের) মোটরসাইকেল নিয়ে যেত। এতে তিনি কিছুই বলতে পারতেন না।
তিনি বলেন, পনির পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায় রাজধানীর হাতিরঝিল, আদাবর ও কাফরুল থানায় মাদকের তিনটি মামলা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডা, শাহজাহানপুর, আদাবর, খিলগাঁও, কামরাঙ্গীরচর থানায় চুরি, সিঁদেল চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নয়টি মামলা এবং চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে গ্রেপ্তার মূল সন্দেহভাজনসহ দুই ব্যক্তিকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। তখন মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন পনি চিৎকার করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। এমনকি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, আমরা বারবার বলছি, সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ, মামলায় আসামি অজ্ঞাত। সন্দেহভাজন থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন থেকেই ধীরে ধীরে জিনিসটা ডেভেলপ করবে। আরও স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। দুজনকে থানায় হস্তান্তর করা হবে। তারপর আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
নয়মুল হাসান বলেন, পনি গাজী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়েছেন। তবে কবে বের হয়েছেন, সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে। আর সেড্রিকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তবে মোটরসাইকেলের মালিক নিশ্চিত করেছে যে পনিরের পেছনের সিটে সেড্রিকই ছিলেন।
জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী আবদুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেন রনজিনা। শনিবার সকালে গাবতলী বাসটার্মিনাল থেকে রিকশাযোগে ফার্মগেট ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।







