ইতিহাসের পথে নবীজির পদচিহ্নের খোঁজে
- ধানমন্ডিতে সীরাত আয়োজন

আয়োজকদের প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ইসলামের সংযোগ তৈরি করবে এই প্রদর্শনী। ছবি: আগামীর সময়
কেউ পাতা উল্টে খুঁজছেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনকথা, কেউ আবার চোখে ভিআর (ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি) হেডসেট লাগিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন মক্কা-মদিনার ইতিহাসে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর রাজধানীর ধানমন্ডির ‘সীরাত আয়োজন ২০২৬’; সেখানেই দেখা গেল এমন চিত্র। বই, চিত্রকর্ম আর প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে জানার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা মিলছে এই আয়োজনে।
তাকওয়া মসজিদ সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত সীরাত আয়োজনে আজ রবিবার দেখা যায়, প্রদর্শনীতে রয়েছে সীরাতবিষয়ক বইয়ের সংগ্রহ, ‘রঙতুলিতে নবীজির শহর’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী এবং ‘নবীজির সুবাস’ নামে বিশেষ আয়োজন।
এ ছাড়া ‘ফুডস অব দ্য প্রফেট মুহাম্মদ (সা.)’ শীর্ষক পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস ও খাবারসংক্রান্ত ঐতিহ্য। পাশাপাশি স্থান পেয়েছে মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থান, ইসলামী ঐতিহ্য এবং পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদে নববীর প্রতিকৃতি।
প্রদর্শনীতে বই কিনতে এসেছে জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. সিগবাতুল্লাহ। আগামীর সময়কে তিনি বলেন, ‘এখানে নবীজির জীবন নিয়ে অনেক বই। কোনটা রেখে কোনটা কিনব, বুঝতে পারছি না। ঠিক করে এসেছি, আজ তিনটি বই কিনব।’
বিক্রেতারা জানান, প্রদর্শনীতে প্রায় এক হাজার বই আছে। দর্শনার্থীদের অনেকে বই কিনছেন, আবার অনেকে বিভিন্ন বই নেড়েচেড়ে দেখে পছন্দ করছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনের মধ্যে আছে মক্কা-মদিনার ভিআর শো, ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন ও দৃষ্টিনন্দন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। এর মধ্যে ‘মিড সেভেন্থ সেঞ্চুরি সেন্ট্রাল মক্কা’ শীর্ষক উপস্থাপনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মক্কার চিত্র। ঐতিহাসিক স্থান ও ঘটনাবলির দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছে দর্শনার্থীদের তৎকালীন মক্কার পরিবেশ ও ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার।
এ অংশে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ঘটনা ও স্থানের বিবরণ দিচ্ছেন ফজলে রাববি মাদানী। আগামীর সময়কে তিনি বলেন, ‘এবারের আয়োজনটি তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে। ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাটিতে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র কাবা শরিফের আশপাশের প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে কী ধরনের জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নবীজির জীবনাদর্শ ধারণ করা এবং পরিবার ও সমাজে তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।’
মোহাম্মদপুর থেকে তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন মো. রায়হান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সম্পর্কে বইয়ে পড়া আর চোখের সামনে দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে বুঝতে পারছি, মহানবী (সা.) কোন পরিবেশে থেকে কতটা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ইসলামের সংযোগ তৈরি করতেও এ ধরনের আয়োজন কার্যকর। সে কারণেই ছেলেকে নিয়ে এসেছি।’
আয়োজকেরা আশা করছেন, সীরাতের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও মহানবী (সা.)-এর জীবনচর্চা বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের তার আদর্শ সম্পর্কে জানার এবং ব্যক্তিজীবনে তা অনুসরণের আগ্রহ তৈরি হবে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়ায় শুরু হয় এ আয়োজন। আয়োজকদের তথ্য, প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত। প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত চলছে সীরাতবিষয়ক আলোচনা। এসব আলোচনায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, নৈতিক শিক্ষা, মানবিকতা ও সমাজ গঠনে তার ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। নারীরা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে পারবেন। অন্যদিকে বাদ জোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে প্রদর্শনী।





