ছুটির দিনে ট্রাফিক কম, সন্ধ্যায় বাড়ে গাড়ির চাপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কার্যদিবসগুলোর তুলনায় ট্রাফিক জ্যাম বা গাড়ির ভিড় অনেকটাই কম থাকে। তবে ভিড় কম থাকলেও রাজপথে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ডিউটি কিংবা বিশ্রামে কোনো হেরফের হয় না। পূর্বের নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যেতে হয় ছুটির দিনেও।
কারওয়ান বাজার এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আলমগীর জানিয়েছেন, ‘অন্যান্য দিনগুলোর চেয়ে শুক্রবার ও অন্যান্য ছুটির দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকলেও তাদের বিশ্রামের সুযোগ নেই। সাধারণ দিনের মতোই ছুটির দিনেও তাদের যথারীতি দায়িত্ব পালন করতে হয়।’ একই স্থানে দায়িত্বরত আরেক সদস্য মো. তসনিম বলেছেন, ‘ছুটির দিনে সকালে ও দুপুরে গাড়ির চাপ তেমন থাকে না। তবে সন্ধ্যা নামলেই চাপ বাড়তে শুরু করে। ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে বা ঘুরতে বের হন, আর পাশেই বসুন্ধরা শপিং মল থাকায় সন্ধ্যার পর ট্রাফিক বেড়ে যায়।’
‘দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করতে হবে আমার। রাত সাড়ে ১০টায় পরবর্তী শিফটের সদস্য চলে আসেন,’ বলছিলেন আলমগীর।
তবে গভীর রাতে সেভাবে থাকতে হয় না জানালেন তিনি। এ ছাড়াও তখন ভারী যান চলে, নির্দেশনা মানতে চান না চালকরা।
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে বাংলামোটর এলাকাতেও। সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য উত্তম মৈত্র জানালেন, ছুটির দিনে সাধারণ মানুষ সকালের দিকে গৃহস্থালি কাজ শেষ করে বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরির জন্য বের হন। সে কারণেই বিকালের পর থেকে গাড়ির চাপ বাড়ে। তবে যানবাহনের চাপ কম বা বেশি যা-ই থাকুক না কেন, ট্রাফিক পুলিশকে সবসময় সতর্ক অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অন্যদিকে, তেজগাঁও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. সোহরাব হোসেন বলছেন, ছুটির দিনে বা শুক্রবারে অন্য দিনগুলোর মতো ভারী ট্রাফিক থাকে না। সারা দিন রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা থাকে। তবে দিনশেষে সন্ধ্যার দিকেই মানুষের চলাচলের কারণে কিছুটা জ্যামের সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটির সময় এই চাপ আরও বেশি দেখা যায় উল্লেখ করে আক্ষেপের সুরে তিনি বললেন, ‘সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতেও যদি ছুটির দিনের মতো কম ট্রাফিক থাকত, তবে ঢাকা শহর সত্যিই অনেক সুন্দর দেখাত।’



