শারমিন এস মুরশিদ
ফ্যাসিবাদী ব্যক্তি-দল সরালেই ফ্যাসিবাদ শেষ হয় না

ফ্যাসিবাদী কোনো ব্যক্তি বা দল ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই ফ্যাসিবাদী প্রক্রিয়ার অবসান ঘটে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। জানালেন, ফ্যাসিবাদ নানা রূপে ফিরে আসতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রে। তাই শুধু একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পরাজয় নয়, ফ্যাসিবাদের জন্ম ও বিকাশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানসিক কারণগুলোও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন গভীরভাবে।
গতকাল শুক্রবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মঞ্চ ২৪ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্য ও বাংলাদেশের ক্ষতি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলছিলেন তিনি।
শারমিন এস মুরশিদের ভাষ্য, দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি কারা এবং তাদের সামাজিক অবস্থান কী— এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। একটি বড় অপশক্তিকে পরাজিত করে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির কারণেই।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐক্যের মাধ্যমে বড় বিজয়ের উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও সারা দেশের মানুষ সম্মিলিত শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টার মত, এটি ছিল এক ধরনের ‘দৈব শক্তি’, যা দেশের মানুষকে করেছিল একত্রিত। একটি দেশে বড় পরিবর্তন আনতে প্রয়োজন হয় ‘কালেক্টিভ পাওয়ার’ বা সম্মিলিত শক্তির। জুলাই আন্দোলনে সেই সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ দেখেছেন তিনি।
স্বৈরশাসন বাংলাদেশের কী ক্ষতি করেছে এবং কী ধরনের ক্ষতি রেখে গেছে, সেগুলো নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা হচ্ছে না কেন? কোনো একটি সম্মেলনে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ উপস্থিত হলেই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই একমত হয়ে গেছে; এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই— যোগ করলেন তিনি।
শারমিন এস মুরশেদ জানালেন, জুলাই আন্দোলন দেশের মানুষকে একটি মৌলিক ঐকমত্যের জায়গায় দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ঐক্যকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর মতো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়নি। এজন্য ন্যূনতম একটি সার্বিক ঐকমত্য প্রয়োজন।





