‘এনএসআই’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নারী উদ্যোক্তার

প্রতীকী ছবি- এআই
মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০৫ সালে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। দীর্ঘ দুই দশকের পরিশ্রমে সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয় প্রতিষ্ঠানে। কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৪০০ মানুষের। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের আয়করও দিয়েছেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সংকটের পর সেই প্রতিষ্ঠানই এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আর প্রতিষ্ঠানটি বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার এক কর্মকর্তার প্রতারণা, ভয়ভীতি, শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক নারী উদ্যোক্তা।
আজ রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী কুসুম কলি শু ফ্যাক্টরির প্রতিষ্ঠাতা নাজমা খাতুন। আকরাম হোসেন নামে এনএসআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা জানান, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একসময় তার কারখানায় প্রায় ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক মন্দা ও ব্যাংকঋণসংক্রান্ত জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
নাজমার অভিযোগ, ব্যবসা পুনরায় চালুর জন্য একজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের পর তার স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন আকরাম হোসেন। কারখানা স্থানান্তর, ব্যাংকঋণ ও কাঁচামাল সংগ্রহে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে নাজমা তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আকরামের সাভারের বিরুলিয়া ভবনে স্থানন্তর করা হয়। কারখানা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে ভবনের মেরামত, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ অন্যান্য কাজে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। পরবর্তী সময়ে এনএসআই কর্মকর্তা ব্যাংকঋণ ও কাঁচামালের ব্যবস্থা নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ফ্লোর ভাড়া ও অতিরিক্ত অর্থের দাবি তুলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও আরও অর্থ দাবি করা হয়।
নাজমার দাবি, টাকা পরিশোধে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি তার স্বামীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এমনকি জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বামীর স্বাক্ষর নেওয়া এবং বাড়াবাড়ি করলে জানমালের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আটকে রাখার কারণে দীর্ঘদিনের শ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা পুনরায় চালু করার সুযোগও হারাতে বসেছেন তিনি।
সরকারের কাছে নাজমার আবেদন, তিনি কোনো ঋণ মওকুফ চান না, কারও দয়াও চান না। চান নিজের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আবার দাঁড়ানোর সুযোগ।
তিনি বলেন, আমি সুযোগ চাই। আমি ঋণ পরিশোধ করতে চাই। আমি আবার উৎপাদনে ফিরতে চাই, কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এনএসআই কর্মকর্তার পরিচয়ের সত্যতা যাচাই, তার স্বামীর ওপর হামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আটকে থাকা মেশিনারি-যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল উদ্ধারে ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর জন্য সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আকরাম হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।







