গ্যাস দিচ্ছে না বিতরণ সংস্থা কিন্তু মাসে মাসে নিচ্ছে বিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাসাবাড়িতে এমনিতেই বাড়তি ব্যবহার ধরে বিল আদায় করে বিতরণ সংস্থাগুলো। এর ওপর আবার বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস পান না গ্রাহকরা। কিন্তু প্রতি মাসে নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্যামলীর বাসিন্দা লিজা আক্তার জানালেন, ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না, আবার মাসে মাসে বিল দিতে হবে। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। সেখানে বক্তারা দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সরবরাহ না দিয়েও বিল আদায় বন্ধের দাবি জানান।
বিতরণ সংস্থাগুলো গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস কিনে তা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। মিটারের মাধ্যমে যে পরিমাণ গ্যাস পায়, সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ করে। অর্থাৎ কম গ্যাস পেলে কম বিল, বেশি পেলে বেশি বিল দেয়। কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত বিল আদায় করে। এতে বিপুল পরিমাণ বাড়তি বিল আদায় করছে বিতরণ সংস্থাগুলো।
বাড়তি বিল আদায়ের সঠিক হিসাব পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে যে ধারণা পাওয়া গেছে, তাতে বাসাবাড়িতেই বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে বিতরণ সংস্থাগুলো। কারখানা ও অন্যান্য খাতের হিসাব বিবেচনায় নিলে এর পরিমাণ আরও বেশি।
গ্যাস না দিয়ে বিল আদায় করা অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী। তিনি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, গ্যাস বিল না দিলে বিতরণ সংস্থা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে। কিন্তু গ্যাস না দিলে বিল পাবে না— এমন কথা গ্যাস সংযোগের শর্তের মধ্যে রাখেনি বিতরণ সংস্থাগুলো।
এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বললেন, তিনি কমিশনে থাকার সময় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা। সেখানে বলা হয়, দুই বছর ধরে কোনো গ্যাস না দিয়েও তিতাস তাদের কাছে বিল দাবি করছে। সব তথ্য-প্রমাণ পেয়ে আমি বিল না দেওয়ার পক্ষে রায় দিলাম। এই রায়ের বিরুদ্ধে পরে উচ্চ আদালতে রিট করে তিতাস। যত দূর জানি, সেটি এখনো বিচারাধীন।
পড়ুন গ্যাস নিয়ে আগামীর সময়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন
পড়তে পারেন এটা






