অবৈধ পশুর হাটে রাজস্ব হারাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি

রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর বৈধ হাটের সমান্তরালে বসেছে অসংখ্য অবৈধ হাট। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় এসব হাট বসিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র। বৈধ হাটের মতো করেই এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে হাসিল। এর ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। আর সড়ক দখলের কারণে তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন নগরবাসী।
এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কোরবানির জন্য অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে ২৩টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১২টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১টি। এসব হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। যার বিপরীতে মোটা অঙ্কের রাজস্ব পেয়েছে দুই সিটি। তবে এর বাইরেও রাজধানীতে বসেছে বহু অবৈধ পশুর হাট। যেসব হাটে পশু বিক্রি করে নেওয়া হচ্ছে হাসিল। কিন্তু এসব হাট থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না দুই সিটি।
ইজারা না নিয়েই কোরবানির পশুর হাট বসেছে আগারগাঁও এলাকায়। সড়কের মধ্যে হাটটি বসিয়েছেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন। অবশ্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করলেন, ওই হাটের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই তার। হাটটি মূলত যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতারা বসিয়েছেন বলে ভাষ্য বিএনপি নেতা স্বপনের।
সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কেন প্রতিবাদ করেননি— এমন প্রশ্নে কিছুটা থতমত খেয়ে বললেন, ‘ছোট একটা জায়গায় হাট বসানো হয়েছে, তাতে তেমন কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’ এ সময় তিনি তার ইউনিট বিএনপিরই সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া এই অবৈধ হাটের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। অথচ হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিজানুর রহমান স্বপন, কিবরিয়া, শফিক এবং ইমরান তাদের সেখানে বসার অনুমতি দিয়েছেন। এই হাট ছাড়াও রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন হাউজিং সোসাইটির মধ্যে হাট বসিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আগারগাঁও হাটে আসা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের জানানো হয়েছে এসব হাট সিটি করপোরেশনের ইজারাভুক্ত। সেভাবে হাসিলও নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের সঙ্গে প্রতারণা। একইভাবে দক্ষিণ সিটির লালবাগসহ পুরান ঢাকার বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ হাট বসিয়ে জোর করে হাসিল আদায় করতে দেখা যায়। আর এসব অবৈধ হাট বসার কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তবুও এসব হাট যেন চোখেই দেখছে না দুই সিটি। অথচ হাট নিয়ে হওয়া ঢাকা উত্তর সিটির বৈঠকে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল— কোরবানির হাট বসানোর ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেবে সিটি করপোরেশন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সে কথা ভুলে গেছেন ডিএনসিসির কর্তাব্যক্তিরাই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আগামীর সময়ের কাছে কমলাপুরে ‘জুলাই আন্দোলনের’ সঙ্গে জড়িত সংগঠনের নামে একটি অবৈধ হাটের তথ্য পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে হাটটি তুলে দিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।






