বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনা, আনসার ও বিমানবাহিনীর পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করাকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় সি-শিফটের ডিউটি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে দায়িত্বরত বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যদের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগমনী গেটে কাঙ্ক্ষিত এক প্রবাসীকে দেখে তার এক স্বজন নিরাপত্তা প্রটোকল না মেনে জোরপূর্বক বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাধা দিলে তিনি তা উপেক্ষা করে সামনে এগোতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। বিষয়টি দেখে সঙ্গে থাকা অন্য স্বজনেরা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। বিমানবাহিনীর নির্দেশে নিরাপত্তার স্বার্থে ভিডিও করতে নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনেরা সংঘবদ্ধ হয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের ঘিরে ফেলেন এবং তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এ অবস্থায় আত্মরক্ষা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে আনসার ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন। নিরাপত্তাকর্মীদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে পরিস্থিতি বুঝে স্বজনেরা দ্রুত ভিড়ের মধ্যে মিশে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এই অপ্রীতিকর ঘটনায় আনসার বাহিনীর পিসি হাবিবুর রহমান, সদস্য মো. নুরুজ্জামান এবং মো. সাদেকুল সামান্য আহত হন। সংঘর্ষে তাদের পরিধেয় ইউনিফর্মের কিছু অংশ ছিঁড়ে যায়। আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
উল্লেখ্য, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জাতীয় স্থাপনায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ সব সংস্থাই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ যাত্রী ও দর্শনার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



