থানায় মামলা
আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা

খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত
আধিপত্য বিস্তারে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। এমনটাই ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই টিপু হত্যাসহ বেশ কয়েকটি কারণ নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।
স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে টিটনকে। গরুর হাটের ইজারা নিয়ে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পিচ্চি হেলালের সঙ্গে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনের বিরোধ চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। তবে সেই বিরোধ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন টিটন। কিন্তু তার আগেই দুর্বত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।
গরুর হাটের ইজারার দ্বন্দ্বেই টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জোর দাবি টিটনের ভাইয়ের।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পায় বেশ কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী। এরপর আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। এর মধ্যে সানজিদুল ইসলাম ইমন, পিচ্চি হেলাল, কিলার আব্বাস, সুইডেন আসলাম, রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, মফিজুর রহমান মামুনসহ একাধিক নাম উঠে এসেছে গোয়েন্দা নজরে। তারা বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় করেছে চাঁদাবাজি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক। পুলিশের ধারণা, এ নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যা করা হয় টিটনকে।
বুধবার দুপুরে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেন টিটনের বড় ভাই রিপন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মোহাম্মদপুরের বছিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল টিটনের।
‘জামিন পাওয়ার পর দুই বার যশোরে গিয়েছেন টিটন। এর মধ্যে একবার ঈদের সময় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বছিলার গরুর হাট নিয়ে বিরোধের কথা কিছুটা বলেছিলেন। তাদের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। পরে জানান, বড় ভাই ঠিক হয়ে যাবে। অসুবিধা নাই, দোয়া কইরেন,’ যোগ করেন রিপন।
রিপনের ভাষ্য, ‘গত ২৬ এপ্রিল রবিবার টিটন ফোন দিয়ে জানায়, তার সঙ্গে পিচ্ছি হেলাল, বাদল ও কিলার বাদল, কাইলা বাদল, শাজাহান, রনি, ভাঙারি রনিদের বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ঝামেলা চলছে। এর পরের দিন সোমবার ফোন দিয়ে বলে, ওরা ভাইকে ডাকছে। সবার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করবে। এরপর আর কথা হয়নি।’
পুলিশকে সব জানানো হয়েছে, আমরা চাচ্ছি ন্যায়বিচার হোক। সবার কাছে অনুরোধ, যেন আমরা ন্যায়বিচার পাই, বলছিলেন রিপন।
আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ইমনের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। এমনিতে ছোটখাটো ঘটনা ভাইবোনের মধ্যে থাকতেই পারে। এটা খুনের পর্যায়ের কোনো বিরোধ বলে মনে করি না।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ১১ ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন। গত বছরের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পেয়ে হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জে বসবাস করতেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে দুজন অস্ত্রধারী অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে টিটনকে শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা পাকা রাস্তার ওপর গুলি করে। ডান কানের উপরিভাগে, বাম ভুরুর ওপরে কপালে, পিঠের বাম পাশের নিচে ও পিঠের ডান পাশের ওপরে, বাম হাতের কুনইয়ের ওপরের সামনের দিকে এবং বাম হাতের কুনইয়ের নিচে, বাম বগোলের নিচে গুলি করা হয় তাকে।
উপস্থিত লোকজন উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে মৃত বলে ঘোষণা করেন টিটনকে।
নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, টিটন হত্যার ঘটনায় ৮-৯ জনকে আসামি করে তার বড় ভাই মামলা করেছেন। তবে এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তারসহ বেশ কয়েকটি ক্লু নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা নিয়েও তদন্ত চলছে।




