শিশুর দুধদাঁতের যত্ন

ছবি: এআই
সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে শুরু করে আড়াই বছর বয়সের মধ্যে ক্রমে শিশুর মুখে মোট ২০টি দুধদাঁত ওঠে। শিশুর চোয়ালের গঠন, সুন্দর হাসি, কথা বলা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস তৈরির মাধ্যমে সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে এই দাঁত। শিশুর দুধদাঁত গঠনগত দিক থেকে স্থায়ী দাঁত থেকে কিছুটা আলাদা। এ কারণে এতে ক্যাভিটি হওয়ার প্রবণতাও বেশি। ফলে বিশেষভাবে এ দাঁতের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
শিশুর দুধদাঁতের যত্নে সাধারণ রুটিন
দাঁত ওঠার আগে: মাড়ি ও জিহবা আলতো করে নরম সুতি ভেজা কাপড় বা গজ দিয়ে নিয়মিত দুইবেলা পরিষ্কার করতে হবে।
দাঁত ওঠার পর তিন বছর বয়স পর্যন্ত: ছোট ও নরম ব্রিসলযুক্ত টুথব্রাশের সঙ্গে চালের দানার পরিমাণ টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করাতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে অভ্যস্ত করতে সময় লাগতে পারে। এ সময় ধৈর্য হারানো যাবে না। যতদিন পর্যন্ত না শিশু স্বাভাবিকভাবে ব্রাশ করতে অভ্যস্ত হয়, ততদিন আগের মতো ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। তিন বছরের ওপরে বাচ্চাদের জন্য মটর দানার সমপরিমাণ পেস্ট নিয়ে ব্রাশ করাবেন।
কখন ব্রাশ করাবেন: ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নিয়ে রাতে এবং সকালে খাওয়ার পর ব্রাশ করতে হবে।
ডেন্টাল ফ্লসিং : যখনই শিশুর পাশাপাশি দুটি দাঁত (বিশেষ করে মাড়ির দাঁতগুলো) পরস্পর স্পর্শ করে থাকবে, তখন থেকে দৈনিক একবার করে দুই দাঁতের মাঝখানের আটকে যাওয়া ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।
শিশুর খাবার : শিশুকে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক খাবার দিতে হবে। প্রক্রিয়াজাত যেকোনো খাবার, মিষ্টি খাবার, চকলেট, কোমল পানীয়, বিস্কুট ইত্যাদি দাঁতের ক্যাভিটি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
দুধদাঁত ঝরে পড়া: স্বাভাবিক নিয়মে ৬ থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত ক্রমে দুধদাঁত পড়ে যায় এবং সেখানে একটি করে স্থায়ী দাঁত ওঠে। দাঁত নড়া শুরু হলে বারবার নাড়াতে হবে। নড়ে যাওয়া দাঁত সময়মতো না ফেলা হলে নিচে থাকা স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা হয়। তাই দাঁত নড়া শুরু হলে সময়মতো হাসপাতাল বা ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
শিশুর ডেন্টাল ভিজিট
শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার পর অথবা প্রথম জন্মদিন থেকে নিয়মিত চার মাস অন্তর একজন পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্টের চেকআপে রাখা উচিত।
শিশুর দাঁতের সংক্রমণের লক্ষণ
- দাঁতের রঙ বাদামি বা কালো হয়ে যাওয়া
- খাবার বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খেলে সংবেদনশীলতা বা ব্যথা হওয়া
- রাতে দাঁত ব্যথা হওয়া
- হঠাৎ করে খাওয়ায় অরুচি/ অস্বস্তি
- খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং খেতে না চাওয়া
- ব্রাশ করতে না চাওয়া
- মুখে দুর্গন্ধ দেখা দেওয়া
- ফুলে যাওয়া বা মাড়ির কাছে পুঁজ জমে ফোলা ভাব
- গাল ফুলে যাওয়া
- জ্বর হওয়া
মনে রাখবেন, শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তাদের অস্বস্তিগুলো নির্দিষ্ট করে বলতে সক্ষম নয়। তাই যেকোনো পরিবর্তনের জন্য প্রাথমিকভাবে একজন পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
লেখক: ডেন্টাল সার্জন, পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা




