জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১২

ছবি: আগামীর সময়
জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় ঘটেছে সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাদের।
আহতরা হলেন শাহিন (৩৫), শহিদ (৩৭), মহিউদ্দিন (৪০), রেনু বেগম (৫০), সাইদুল (২৮), সালমা আক্তার (৩০), লিজা আক্তার (২৫), আয়েশা আক্তার (৩৫), হান্নান (৩৬), রাবেয়া বেগম (৬০), শাহ জালাল (৩৫) ও শাহীনূর বেগম (৩০)।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামের ঘটে প্রথম সংঘর্ষ। পরে রাত ৮টার দিকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও আবারও হয় সংঘর্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সিঙ্গাপুরপ্রবাসী রাকিবের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী শাহিনদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এ নিয়ে অতীতেও কয়েকবার উভয় পক্ষের মধ্যে হয়েছে ঝগড়া-বিবাদ। সর্বশেষ সোমবার একটি সালিশ বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে আহতরা চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাকিবের স্ত্রী কুলসুম বেগমের অভিযোগ, ‘আজ যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা মূলত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিছুদিন আগে গ্রামে একটি মাদকবিরোধী সভায় আমি তাদের মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ করি। এরপর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে আমি মুন্সীগঞ্জ আদালতে একটি মামলাও করেছি। আজ তারা আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে এসে বহিরাগত লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহিনের স্ত্রী সালমা বেগম বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে রাকিবদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, এর বাইরে কিছু নয়। কুলসুম আমাদের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। সোমবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে জমি মেপে আমাদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। আমরা আমাদের প্রাপ্য অংশে কাজ করতে গেলে তারা বাধা দেয়। পরে কুলসুমসহ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও আমরা দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হয়েছি। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবিদুল হক আবিদ জানান, সংঘর্ষে আহত ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইদুল ও হান্নানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়া বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী বলেছেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে ঘটেছে হাতাহাতির ঘটনা। পরে হাসপাতালের সামনেও কিছুটা সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




