হঠাৎ চোখে রক্ত জমে গেলে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হুট করে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন চোখে রক্ত জমে আছে। প্রথম দেখায় ভড়কে গেলেন। বুঝতে পারলেন না কেন এমন হলো।
চোখে রক্ত জমে কেন
আমাদের চোখের কালো মণির চারপাশের সাদা অংশকে বলা হয় স্ক্লেরা। এই সাদা অংশের কয়েকটি আবরণ থাকে। আর সেগুলোর ভেতরে আছে সূক্ষ্ম রক্তনালি। খালি চোখে সেসব দেখা যায় না। সামান্য আঘাতে বা আকস্মিক চাপে এই নালিগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়। চোখের স্বচ্ছ পর্দার ভেতরে সেই রক্ত ছড়িয়ে জমাট বেঁধে যায় বলে দেখতে অনেক সময় ভীতিকর লাগে। অনেক কারণে চোখে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে—
- জোরে হাঁচি-কাশি দেওয়ার ফলে চোখের ওপর চাপ পড়লে।
- চোখের ভেতরে কিছু পড়ার কারণে জোরে জোরে চোখ ঘষাঘষি করলে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য হলে।
- হেভি ওয়ার্কআউট বা ভারী কিছু ওঠানামা করলে।
- রক্তের থ্রম্বোসাইট বা প্লেটলেটের জন্মগত ত্রুটি থাকলে।
- লিভারের সমস্যা ও ভিটামিন ‘কে’র অভাব দেখা দিলে।
- লিউকেমিয়া বা মাল্টিপল মায়োমার মতো ব্লাড ক্যানসার থাকলে।
- রক্ত তরল করার ওষুধ (অ্যাসপিরিন, ইকোস্প্রিন ইত্যাদি) খেলে।
আমাদের চোখের সাদা অংশের ভেতরে আছে সূক্ষ্ম রক্তনালি। সামান্য আঘাতে বা আকস্মিক চাপে এই নালিগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়
চিকিৎসা
- প্রথমবার চোখে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। প্রথম দু-তিন দিন একটু রক্ত ছড়াতে পারে। সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি এমনিতেই সেরে যায়।
- রক্তক্ষরণের পরিমাণ বেশি বা বারবার রক্তক্ষরণ দেখা দিলে কারণ চিহ্নিত করা খুবই জরুরি। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রোগ-বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- ওয়েট লিফটিং বা ভারী কিছু ওঠানামার ফলে রক্তক্ষরণ হলে সেটি পুরোপুরি সেরে যাওয়া পর্যন্ত ভারোত্তোলন বন্ধ রাখার দরকার।
- রক্ত তরল করার ওষুধ খেলে রোগীকে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বারবার রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাময়িকভাবে ওষুধ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
চোখে রক্তক্ষরণের মূল কারণটি আগে খুঁজে বের করতে হবে। যে কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে (যেমন: হাঁচি-কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য) সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখলে আবার এটি হওয়ার ঝুঁকি কমে। যদিও এটি সাধারণত এমনিতেই সেরে যায়, তবু চোখের যত্নে হেলাফেলা না করে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
যাদের বারবার এ সমস্যা হয়, তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে নেওয়া উচিত।
লেখক: কনসালট্যান্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, ঢাকা




