এশিয়ায় তরুণ পুলিশের অভাব: বদলাচ্ছে নিরাপত্তার প্রথাগত কৌশল

ছবি: রয়টার্স
এশিয়ার দেশগুলোতে প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততম। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর ও চীনে দ্রুত জন্মহার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি এক নতুন সামাজিক সংকট তৈরি করেছে।
দশকের পর দশক ধরে এশিয়ার পুলিশিং ব্যবস্থার মূল মনোযোগ ছিল মূলত সহিংস অপরাধ দমন, গ্যাং কালচার প্রতিরোধ এবং তরুণদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। তবে জনসংখ্যার এই নাটকীয় রূপান্তর পুলিশের প্রথাগত কাজের ধারায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এশিয়াজুড়ে বয়োবৃদ্ধির ফলে পুলিশিং ব্যবস্থার আধুনিক চ্যালেঞ্জ ও রূপান্তরের কথা তুলে ধরেছেন বিশ্লেষকেরা।
জটিল এই পরিস্থিতির প্রথম কারণ হলো, এশিয়ার পুলিশ সংস্থাগুলোকে এখন সহিংসতার চেয়ে প্রবীণ নাগরিকদের কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অপরাধ মোকাবিলায় বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে আক্রান্ত বয়স্ক মানুষের নিরুদ্দেশ হওয়া, একা থাকা প্রবীণদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল ও আর্থিক প্রতারণা এবং একা নিঃসঙ্গ মৃত্যুর মতো সামাজিক সংকটগুলো সরাসরি পুলিশের কাঁধে এসে পড়ছে। ফলে অপরাধ প্রমাণের চেয়ে নিখোঁজদের উদ্ধার এবং প্রবীণদের মানসিক সুরক্ষা প্রদানে বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
কেবল অপরাধের ধরন সামলানোই নয়, বরং স্বয়ং পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই দেখা দিয়েছে তীব্র কর্মী সংকট ও বয়োবৃদ্ধির ছাপ। তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নতুন সদস্য নিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিদ্যমান পুলিশ কর্মকর্তাদের গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক দেশকে অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ধরে রাখতে হচ্ছে। নতুন সদস্যের অভাব মেটাতে পুলিশ বাহিনীগুলোতে এখন ড্রোন, এআই প্রযুক্তি, ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রথাগত শারীরিক প্রশিক্ষণের চেয়ে কর্মকর্তাদের এখন সাইকোলজিক্যাল ট্রেনিং ও কেয়ারগিভিং দক্ষতা বাড়ানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রবীণ অপরাধী এবং প্রবীণ ভুক্তভোগীদের সাথে আচরণ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করেছে অঞ্চলটির বেশ কিছু দেশের সরকার। ঐতিহ্যগতভাবে যেখানে পুলিশকে কেবল ‘আইন প্রয়োগকারী’ হিসেবে দেখা হতো, সেখানে সমাজের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পুলিশ এখন অনেকটাই সামাজিক ও সেবামূলক সংস্থায় রূপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রূপান্তর কেবল সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত পরিবর্তন। প্রথাগত দমনমূলক নীতি ছেড়ে পুলিশিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তি, মানবিক যত্ন এবং সমাজসেবার এই মেলবন্ধন নিশ্চিত করা না গেলে এশীয় দেশগুলোর প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট (The Diplomat)




