ঢাকার রাজপথে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে গুলি করে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সমন্ধী।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় এ ঘটনা ঘটে।
শুরুতে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তিনি ইমনের সমন্ধী টিটন বলে জানতে পেরেছে আগামীর সময়ও।
রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫টি গুলি করে।
পথচারীরা টিটনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তার মৃত্যুর তথ্য জানান।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত জানান, নিহতের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও প্রিন্টের অর্ধহাতা শার্ট।
গুলিবিদ্ধ টিটনকে হাসপাতালে নিয়ে যান মো. জুয়েল নামে এক পথচারী। তিনি জানাচ্ছিলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি নিউ মার্কেটের শহীদ শাহ্ নেওয়াজ হলের সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন।
এ হত্যার একজন প্রতক্ষ্যদর্শী শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ। তিনি জানান, নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট ও শহীদ শাহ নেওয়াজ হলসংলগ্ন রাস্তায় টিটনকে গুলি করা হয়। গুলি লেগে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
৫২ বছর বয়সী টিটন দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারামুক্ত হন। রাজধানীর রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার অপরাধ জগতে ছিল তার আধিপত্য। রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা।
আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন বিয়ে করেছে টিটনের ছোট বোনকে। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেন বলে আছে আলোচনা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন পান টিটন। কিন্তু আইনি জটিলতায় কারামুক্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগারে আটক অনেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো তিনিও পান ছাড়া।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানালেন, জামিনে মুক্তির পর নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি টিটন। অনুপস্থিতির কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ২০০২ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। যাদের মধ্যে টিটন ছিলেন অন্যতম।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, টিটনের মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে। বিষয়টি নিউমার্কেট থানাকে জানানো হয়েছে।



