বিশ্বকাপ
মেসি, মেসি এবং মেসি
- • বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক
- • বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গী
- • বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারের হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড
- • আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচে ১২০ গোল

সংগৃহীত ছবি
সময় তার প্রতিপক্ষ ছিল, বয়স ছিল নীরব চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তিনি যেন ক্যালেন্ডারের নিয়ম মেনে চলতে চান না। চান গোলে গোলে ফুটবলকে আরো উপভোগ করতে আর বাঁ পায়ের জাদুতে অনুরাগীদের সম্মোহিত করতে।
তিনি লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ক্যাম্প শুরুর আগে যার ছোটখাটো ইনজুরি হয়েছিল। বয়স তার কাঁধে হাত রেখেছিল। কিন্তু সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ ছুঁই ছুঁই মানুষটি বাঁ পায়ের জাদু নিয়ে হাজির হয়েছেন আমেরিকার বিশ্বকাপে। আজ কানসাসে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে উড়ে গেছে আলজেরিয়া।
কেউ কি মেসির এমন শুরুর কথা ভেবেছিলেন! বিশেষ করে বড় দলগুলো যখন খাবি খাচ্ছে তখন আরো শঙ্কা ভর করেছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে। কাতারেও যে হেরেছিল প্রথম ম্যাচে।
কিন্তু সর্বকালের সেরা ফুটবলারটি দলে থাকলে আর শঙ্কার জায়গা কই। কাতার বিশ্বকাপ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছেন মেসি। সেই ক্ষিপ্রতা, বাঁ পায়ের ম্যাজিক, নিখুঁত নিশানা সবই যেন আগের মতোই আছে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে তিনি প্রথম আলজেরিয়ার জালে বল জড়ান কিন্তু শরীর একটুখানি বাইরে থাকায় অফসাইডের খাঁড়ায় পড়েন।
তার মিনিট তিনেক বাদে এক চমৎকার মুভে আলজেরিয়ার ছাইবি আর্জেন্টাইন কিপার এমিলিয়ানোকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পৌঁছে দিলেও গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে।
তবে ১৭ মিনিটে দে পলের বাড়ানো লং বল ধরে মেসি বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদ করেন। আগুয়ান আলেজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা জিদান বলটি দুই হাতের আঙ্গুলে ছোঁয়ালেও গোল ঠেকাতে পারেননি।
বিশ্বকাপে এটি তার ১৪তম গোল। বিরতির পর মাঠে নেমে ৬০ মিনিটে আরেকবার আলজেরিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার আরো কাছাকাছি। সেখানেই-বা দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন? ৭৬ মিনিটে ঠিক প্রথম গোলের রিপ্লে’র মতোই আরেক গোল সেই বাঁ পায়ে। সোনায় মুড়িয়ে রাখার মতোই একটি পা। তার সুবাদে এখন ক্লোসার সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ওদিকে মধ্যরাতে এমবাপ্পে জোড়া গোল করে ভেবেছিলেন মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে। সকালে মেসির ম্যাজিকাল ফুটবল শুরু হতেই পিছিয়ে পড়েন ফরাসী তারকা। জোড়ার জবাবে দিয়েছেন হ্যাটট্রিক। তা-ও আবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের পায়ে এই কীর্তি।
পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০-তম ম্যাচ খেলতে নামা মেসির হ্যাটট্রিকে নিজের গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০। এ এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড-ভাঙ্গা ম্যাচ লিওনেল মেসির। প্রতিটি রেকর্ড যেন তার বুটের নীচে ধুলোর মতো ঝরে পড়েছে। বয়স যেন নিছক এক সংখ্যা। আসলে কিংবদন্তীর বয়স বাড়ে কিন্তু তার জাদু কখনো বৃদ্ধ হয় না।




