পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্রকে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়েছে আসাদুল ইসলাম (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে। পরে মরদেহে পেট্রল ঢেলে ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত।
নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার বিলমানুষমারি গ্রামের কৃষক শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে। বালিয়াকান্দী মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। গত সোমবার সকালে উপজেলার মদাপুর গ্রামের একটি পাটখেতের পাশ থেকে তার হাত-পা বাঁধা দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার পর পরিচিত ব্যক্তি মিজান শেখের কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন আসাদুল। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধের। পরে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করেন মিজান।
সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার জানান, রবিবার রাতে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয় আসাদুলকে। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত নষ্ট করতে মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল নিয়ে তার শরীরে ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মদাপুর গ্রামের মো. মিজান শেখ (২৪), তার খালু পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আনোয়ার মণ্ডল (৪০) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের আবদুল করিম মোল্লা (৩৫)।
তবে পুলিশের ভাষ্য, মারধরের পরিকল্পনায় তারা যুক্ত থাকলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেননি। তদন্তে এ ঘটনায় আরও সাত থেকে আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দায়ের করেন হত্যা মামলা। এরপর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদুল নিখোঁজ হন। রাত ৮টার দিকে সৌদি আরবপ্রবাসী এক ভগ্নিপতির কাছে জরুরি প্রয়োজনে চেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয় পুলিশকে।
আসাদুলের চাচা শফিকুল ইসলামের দাবি, ‘আসাদুলের মতো ভালো ছেলে এলাকায় খুব কমই আছে। তাকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমরা।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর রাজবাড়ী জেলা শাখার আমির মো. নূরুল ইসলামের দাবি, আসাদুল সংগঠনের মদাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে দিয়েছেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।’
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় আসাদুলের মরদেহ। পরে নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয় তার দাফন।




