‘৩০ সেকেন্ডের রাস্তা এসেছি ৫০ টাকা ভাড়ায়’

ছবি: আগামীর সময়
বৃষ্টি এলেই চিরচেনা দুর্ভোগে পড়েন রাজধানীবাসী। গত রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি হয়েছে আরও ভয়াবহ। রাজধানীর অর্ধেকের বেশি এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে আজ সারাদিনই ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
বাসা থেকে মাত্র অর্ধ-কিলোমিটার দূরে মাকসুদা রিনার অফিস। অথচ তাকে খরচ করতে হয়েছে ৫০ টাকা।
মাকসুদা রিনা বললেন, ‘সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য নিচে নেমে দেখি, বাসার নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পরে পোশাক বদলে আবার নামি। কিন্তু এত পানি ছিল যে রিকশা ছাড়া মূল সড়কে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর রিকশা পেয়ে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পানি পার হই।’
‘বৃষ্টির কারণে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের পথ পার হতে ৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। কিছু করারও ছিল না। বৃষ্টি হলেই রিকশার ভাড়া বেড়ে যায়। অফিসে যেতেই হবে। তাই বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হয়েছে।’—যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৫ সালে ঢাকা শহরের ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ এলাকা ছিল জলাভূমি। ভরাট ও দখলের কারণে তা কমে এখন মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্বে শহরের প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাধার হারিয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামার পথ সংকুচিত হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে।
সাধারণ মানুষের যত্রতত্র ফেলা ময়লাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এসব ময়লা ড্রেনে গিয়ে জমে। এতে পানি সহজে নামতে পারে না। সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে প্লাস্টিক বর্জ্য। এগুলো ড্রেনের প্রবাহ আটকে দেয়।
উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. সালাহ উদ্দীন পল্লবের অফিস গুলশান-১ এলাকায়। তিনি সাধারণত বাসে যাতায়াত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক থাকায় আজ উবারে গাড়ি ডাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর গাড়ি পান।
পল্লব জানালেন, ফ্লাইওভার থেকে নামার পরই সমস্যায় পড়ি। রাস্তায় অনেক পানি ছিল। সেই পানির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। যানজটের কারণে উবারের ভাড়াও প্রায় এক হাজার টাকায় পৌঁছে। টাকার চেয়ে বড় বিষয় হলো, বাসা থেকে অফিসে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগেছে। শুধু জলাবদ্ধতার কারণেই সময় ও টাকা—দুটোরই ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। চলতি মাসে রাজধানীতে ছয় ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মেহরিণ জাহানও পড়েন একই ভোগান্তিতে। অফিসে পৌঁছাতে তার প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়।
তিনি বললেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ঠিক করেছিলাম সিএনজিতে যাব। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও সিএনজি পাইনি। পরে রিকশায় করে মেট্রো স্টেশনে যাই। মেট্রো থেকে নেমেও জমে থাকা পানি পেরিয়ে অফিসে যেতে হয়েছে।’
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বললেন, ‘আগামী আরও দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি থাকতে পারে। তবে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’






