সংসদ অভিমুখে গুম প্রতিরোধ দিবস পালন কমিটির পদযাত্রা

মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থান নেন মিছিলে অংশগ্রহাণকারীরা। ছবি: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকার বাংলামোটর থেকে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’।
আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বাংলামোটর মোড় থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট হয়ে সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা।
পরে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থান নেন। পদযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর দাবি জানান।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন’, ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, সংসদ ভবন ঘেরাও হবে’, ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’।
এ সময় রাস্তায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে গুমফেরত ফেরদৌস আজিজ বলেন, ‘আমরা এই বাংলাদেশে আর কোনো গুম ও খুন চাই না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, সেভাবেই আইন প্রণয়ন করতে হবে।’
কমিটির সদস্য আলমগীর হাসান রাজু বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকার আমাদের ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, তা নিন্দনীয়। গুম কমিশন গঠন করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকারকে নিরপেক্ষভাবে এই কমিশন বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, বর্তমান সরকার পূর্বের অধ্যাদেশটি কাটছাঁট করে প্রকাশ করার পাঁয়তারা করছে। যাতে করে তারা নতুন করে গুমের সংস্কৃতি চালু করতে পারে। জনমানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন করে আর এই বাংলাদেশ গুমের শিকার হতে দেবে না।’
গুমের শিকার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বলেন, ‘আমি দুবার গুমের শিকার হয়েছি। আইনে সমস্যা থাকায় প্রমাণের অভাবে অনেকেই বিচার পাচ্ছেন না। আইন পরিবর্তন করে নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’








