বুড়িগঙ্গা তীরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু সোমবার

হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বুড়িগঙ্গা নদীর ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর সংলগ্ন তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সেখানে আবারও বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৩৬৭৬/২০১০-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া আদেশে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে শনিবার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুড়িগঙ্গার ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার নদীতীর সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের অবস্থান এবং বর্জ্য জমার কারণ সম্পর্কে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদী ও নদীতীরে বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
এ সময় চেয়ারম্যান হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। নদীর তীর পরিষ্কার করার পাশাপাশি সেখানে যাতে পুনরায় বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দুই তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নদীর তীর দখল এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এসব বর্জ্য জমে নদীর তীর ভরাট হওয়ার পাশাপাশি নদীর পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্যও বুড়িগঙ্গায় পড়ছে। এতে বিআইডব্লিউটিএ নিয়ন্ত্রিত নদীতীরের বিভিন্ন অংশ দখল ও দূষণের কবলে পড়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। নদীতীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং, নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য নিক্ষেপ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, বুড়িগঙ্গা নদী শুধু ঢাকার নৌযোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়; এটি রাজধানীর পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। নদী ও নদীতীরের পরিবেশ সুরক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে শুধু বর্জ্য অপসারণই যথেষ্ট নয়; নদী তীরে পুনরায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে যথাযথ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন (গ্রেড-২), বন্দর পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রধান, প্রধান প্রকৌশলী (পুর.) সাইদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির, যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুব জামিল, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশ্রাফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



