এসবির এসআইকে হত্যার সময় অভিযুক্তরা ছিল মাদকাসক্ত : র্যাব

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার সময় অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এটা মূলত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত ছিলেন। আলতাব হোসেন গ্যারেজে বৃদ্ধকে মারধর করতে দেখলে মানবিকতা দেখিয়ে সেখানে প্রতিবাদ করেন। যার কারণে ক্ষিপ্ত হতে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা করে।
গত শনিবার রাতে আমিনবাজারে আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে র্যাব। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সেদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগী অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব জানায়, অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাব হোসেন প্রতিবাদ করেন। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাবের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাব নিজের পরিচয় দেন। এতে আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে আলতাব দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে।
র্যাব আরও জানায়, পরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাব ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন বলে জানায় র্যাব। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে আটজনকে র্যাব ও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
র্যাব জানিয়েছে, র্যাব যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের মধ্যে চারজনকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে র্যাব-১০ এবং বাকি চারজনকে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে র্যাব-৪ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন– আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহম্মেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা জেলা পুলিশ।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আপন কিশোর গ্যাং-এর মূলহোতা ও মাদক সাপ্লায়ার। তার নামে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি এসআই আলতাবকে এসএস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে।








