আমিনবাজারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার ১

এসবি পুলিশ সদস্য আলতাবকে পিটিয়ে হত্যায় সন্দেহভাজন জহিরুল ইসলাম সাভার থানায়। ছবি: আগামীর সময়
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক জহিরুলকে ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানালেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।
ওসি সাইফুল বললেন, নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন (৪৬) আজ সকালে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নামের মামলা করেছেন। তাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকার জহিরুলকে।
নিহত আলতাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি এসবি ঢাকার মালিবাগ জোনের এসআই ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায়। একই এলাকায় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলামের পোশাক কারখানা ‘এড্রইট ফ্যাশন’।
এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ওসি জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে থেকে ঘটনার সূত্রপাত। গ্যারেজের সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আসামি জহরুলের সঙ্গে প্রথমে এক রিকশাচালকের ও পরে গ্যারেজমালিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের তর্ক হয়।
ওসি বললেন, এক পর্যায়ে আবুল কালামকে মারধর করেন জহরুল। সেসময় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এসআই আলতাব। ঘটনা দেখে মারধরে বাধা দিতে এগিয়ে যান তিনি। ততক্ষণে ফোন করে অনেককে ডেকে আনেন জহরুল। তারা চড়াও হন আলতাবের উপরেও। দৌড়ে ছেলের কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে ছিলেন তার ছোট ছেলে আরিফুল।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়েন। আলতাবকে লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয় ছেলে আরিফুলকেও। এরপর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে আড়াই লাখ টাকা লুট করে চলে যান আসামিরা।
স্থানীয় লোকজন গিয়ে দুজনকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বললেন, ‘যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছেন, ওরা আগে থেকেই সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তারা এলাকায় প্রতিদিনই মাদকসেবন করতেন। বিকাল হলে মাদক খেয়ে প্রাইভেটকার নিয়ে রাত ২-৩ টা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতেন।’
রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আজ জানাজা শেষে আলতাবের মরদেহ নেওয়া হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সেখানেই দাফন হবে বলে জানালেন শরিফুল।
ওসি সাইফুল আলম বলেছেন, হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামি জহরুলকে সোমবার আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ডে চাওয়া হবে।




