চুয়েটে অচলাবস্থার এক মাস: বাতিল ৩৩ পরীক্ষা ও ৮৬৪ ক্লাস

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি- আগামীর সময়
উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শুরু হওয়া অচলাবস্থার এক মাস পেরিয়েছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা আন্দোলনে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে ৩৩টি পরীক্ষা ও ৮৬৪টি ক্লাস। সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করলেও এখনো কোনো বৈঠক হয়নি। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সে রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কর্মবিরতিতে যান।
টানা অচলাবস্থার মধ্যে গত ১২ অক্টোবর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে তিনি অবরুদ্ধ হন। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৬ অক্টোবর অনলাইনে চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের মাত্র ছয়জনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ পরামর্শক কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ অক্টোবর ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখা হলেও চুয়েটের কোনো শিক্ষককে রাখা হয়নি।
কমিটি গঠনের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে জানতে কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘কমিটির আহ্বায়ক এখনো কোনো সভা ডাকেননি। সভা হলে বোঝা যাবে কী উপায়ে সংকট নিরসন হতে পারে।’ কমিটিতে চুয়েটের শিক্ষক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে কমিটিতে চুয়েটের কাউকে যুক্ত করে নেওয়া যেতে পারে।’
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাউকে না রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। অন্যদিকে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেছেন, তারা আগের দাবিতেই অনড় আছেন এবং নতুন উপাচার্যের সঙ্গে কাজ করবেন না। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য আগামী রোববার ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষকদের নিয়ে বসে ক্লাস-পরীক্ষা সচলের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হক খন্দকার নিশ্চিত করেছেন, টানা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের ১২টি বিভাগে মোট ৩৩টি পরীক্ষা ও ৮৬৪টি নিয়মিত ক্লাস বাতিল হয়েছে। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দাশ বলেন, এক মাস ধরে আন্দোলন চলছে, এখনো ওপর মহলের ঘুম ভাঙছে না। আমরা সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই। ক্লাসে ফিরতে চাই।
পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ক্যাম্পাস অনেকটাই ফাঁকা। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে নিয়মিত কর্মদিবস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দাবি
আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে ফেরা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়েও এখনো কোনো সমাধান আসেনি।




