চৌদ্দগ্রাম
সেতু নেই ডাকাতিয়া নদীতে, স্বেচ্ছাশ্রমে ২৬০ ফুট বাঁশের সাঁকো

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী ও নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। নদীর ওপর সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায়, এমনকি নৌকা না পেলে সাঁতরে নদী পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে ২৬০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ শুরু করেছেন এলাকাবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী গ্রামের এয়াকুব মজুমদার ও নাজমুল হোসেন এবং নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার আবদুল মান্নান ও অলি আহমেদসহ কয়েকজন। সাঁকোটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেন বলেন, এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সাঁকো নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা এয়াকুব মজুমদার বলেন, ‘সবার ছোট ছোট সহযোগিতায় সাঁকোটি নির্মাণ করছি, যেন মানুষের চলাচল সহজ হয়।’
ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘হুগলি পাড় থেকে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে আমাদের বিদ্যালয়ে আসে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ শুরু হওয়ায় ভালো লাগছে। তবে সরকারি উদ্যোগে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।




