হেফাজতের উদ্যোগে নতুন প্ল্যাটফর্ম, ভিড়েছে জামায়াত জোটের দুটি দল

ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় আজ সাতটি দলের নেতাদের বৈঠকে ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় কওমি ঘরানার সাতটি দল নিয়ে যাত্রা শুরু করল নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামের এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জোটে থাকা দুটি রাজনৈতিক দল।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা দল দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
নতুন প্ল্যাটফর্মের অন্য পাঁচটি দল হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গত জুলাই মাসে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর এক বৈঠকের পর নতুন একটি জোটের আলোচনা চলছিল। তা অনেকটা এগিয়ে এখন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিল।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সাতটি দলের নেতাদের বৈঠকে নতুন প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
পরে দলগুলোর নেতারা জানান, সমন্বয় জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্ম গঠনের পেছনে ভূমিকা রাখছে হেফাজতে ইসলাম।
হেফাজতের নেতারা বলছেন, তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্বে আসছেন না, বরং অভিভাবক বা মুরুব্বির ভূমিকা পালন করছেন।
হেফাজতের তিনজন নেতা উপস্থিতিতে এই বৈঠকে সাতটি দলের প্রতিটির তিনজন করে প্রতিনিধি নিয়ে মোট ২১ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সাংবাদিকদের জানান, হেফাজতে ইসলামের সহযোগিতায় সাতটি দল একটি অভিন্ন ব্যানারে একত্র হয়েছে। জোটের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের শীর্ষ নেতারা তাদের সহযোগিতা করবেন।
আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগ-বিয়োগের হিসাব
নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ কৌতূহল তৈরি হয়েছে মূলত ইসলামী দলগুলোর মেরুকরণ নিয়ে।
এই সাত দলের কয়েকটি আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন পৃথক রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয়। ফলে নতুন এই উদ্যোগ তাদের রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের নেতৃত্বে যে ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়, সেখানে ইসলামী বেশ কয়েকটি দল ছিল।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এই জোটের আলোচনার শুরুর দিকে থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে তারা আর জোটভুক্ত হয়নি।
শেষে ১১ দলীয় ঐক্যে ছিল- জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও লেবার পার্টি।
এরমধ্যে খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলন নির্বাচনের পর ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন আল্লামা মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টিও ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে।
আবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সম্পর্ক বিএনপির সঙ্গে। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে তারা নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিল।
এখন এই দলগুলো নতুন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিলেও তাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্ক ও অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
আতাউল্লাহ আমিনের ভাষ্য, দলগুলো নিজেদের বিদ্যমান রাজনৈতিক জোটে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সমমনা ইসলামী দলসমূহের ব্যানারেও কাজ করতে পারে।
আবার আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন তিনি।
তবে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলছেন, যেসব দল অন্য জোটে আছে, তারা সেই জোট ছেড়ে ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছে।



