সাভারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ৮

গ্রেপ্তার হওয়া চারজন। সংগৃহীত ছবি
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
সম্মেলনে তিনি জানান, চারজনকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে র্যাব-১০ এবং সাভারের আমিন বাজার এলাকা থেকে র্যাব-৪ বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব-১০ এর অভিযানে গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন–আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। বাকি চার ব্যক্তি হলেন–নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহম্মেদ ও মো. ওয়াসিম।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক সম্মেলনে বলেছেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া আপন কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা ও মাদক সাপ্লায়ার। তার নামে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি এসআই আলতাবকে এসএস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে মারাত্মক জখম করে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘এটা মূলত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত ছিলেন। এসময় আলতাব গ্যারেজে বৃদ্ধকে মারধর করতে দেখলে মানবিকতা দেখিয়ে সেখানে প্রতিবাদ করেন। যার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা করে।’
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গত রবিবার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগী অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
র্যাব জানায়, একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাব তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআইয়ের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাব নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাব ও তার ছোট ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদেরকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআইকে কে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মো. শুকুর ও মো. রাকিব নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।তিনি বলেছেন, ‘তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’
ঘটনার সময় ব্যবহৃত সাদা কালারের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার আমিনবাজার থেকে প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন (৪৬) সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত আলতাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি এসবি ঢাকার মালিবাগ জোনের এসআই ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায়। একই এলাকায় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলামের পোশাক কারখানা ‘এড্রইট ফ্যাশন’।
এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ওসি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে থেকে ঘটনার সূত্রপাত। গ্যারেজের সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আসামি জহরুলের সঙ্গে প্রথমে এক রিকশাচালকের ও পরে গ্যারেজমালিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের তর্ক হয়।
ওসি জানান, এক পর্যায়ে আবুল কালামকে মারধর করেন জহরুল। সেসময় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এসআই আলতাব। ঘটনা দেখে মারধরে বাধা দিতে এগিয়ে যান তিনি। ততক্ষণে ফোন করে অনেককে ডেকে আনেন জহরুল। তারা চড়াও হন আলতাবের উপরেও। দৌড়ে ছেলের কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে ছিলেন তার ছোট ছেলে আরিফুল।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়েন। আলতাবকে লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয় ছেলে আরিফুলকেও। এরপর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে আড়াই লাখ টাকা লুট করে চলে যান আসামিরা।







