লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জনরোষ, পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

ফাইল ছবি
দেশের গ্রামাঞ্চলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একাধিক স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
গত সোমবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পার্বতীপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন ভবের বাজার ইনডোর উপকেন্দ্রেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা-ভাঙচুরের একাধিক ভিডিও সামাজিকমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতদের অনেকেই বলছেন, ধারাবাহিকভাবে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়তে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে বুধবার একটি চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতে কর্মরতদের সংগঠন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে গড়ে আট থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অত্যধিক লোডশেডিংয়ের কারণে জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র অফিসগুলো হামলার শিকার হচ্ছে।
এদিকে, গোপালগঞ্জে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বা ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একধরনের নিরাপত্তা শঙ্কায় পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জনরোষ আরও বাড়তে পারে বলেও শঙ্কা অনেকের।
পল্লী বিদ্যুৎসহ বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী, স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম। তিনি বলছেন, বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতদের লোডশেডিং র্যাশনালাইজেশনসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের যতগুলো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আছে, পিডিবি আছে, নেসকো আছে সবাইকে বলা হয়েছে যে, সবাই যেন লোড ম্যানেজমেন্টটা ওইভাবেই করে, কোথাও বেশি লোডশেড, কোথাও কম লোডশেড এটা যেন না হয়।’
এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষুব্ধ না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। বলেছেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতদের বলেছি, যাতে তারা মানুষকে একটু বোঝায় যে, এটা তো আমার ব্যক্তিগত কিছু নয়, আমার কারণে বিদ্যুৎটা বন্ধ আছে, এভাবে কমিউনিকেটিভ ওয়েতে একটু ম্যানেজ করার কথা বলেছি।’






