বিল আসে ঠিকই বিদ্যুৎ থাকে না
- শিবচরে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং

সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরমের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচরে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ-সংকট। দিনে-রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাসে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পানির মোটর চালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণসহ ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ। রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে গরমে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। দিনে চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ১২ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ-সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফটোকপি, কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফ্রিজ ও কোল্ড ড্রিংকসের ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইকচালকরাও রাতে ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় আয় হারাচ্ছেন।
বন্দখোলা ইউনিয়নের ভ্যানচালক আহসান মিয়া বললেন, ‘সারা রাতে ২ ঘণ্টাও টানা বিদ্যুৎ থাকে না। ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না। আগে দিনে ৫০০ টাকা আয় করতাম, এখন ২০০ টাকা আয় করার আগেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়।’
বিদ্যুৎ-সংকটের পাশাপাশি বাড়তি বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। উমেদপুর ইউনিয়নের কবির হোসেন বললেন, ‘সাধারণত মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিল আসে। এ মাসে এসেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, আবার বিলও বেশি।’
শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল হক জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ না বাড়লে লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই। বাড়তি বিলের অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।




