আসুন সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখি : প্রধানমন্ত্রী

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বললেন, ‘আমরা যদি আজ থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই, আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহারকৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি, তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনামুক্ত করতে পারব, সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।’
‘দেশটা তো আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে করি, তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি- আমরা সবাই মিলে আসুন, চেষ্টা করি আমাদের দেশটিকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের পরিবেশটিকে সুন্দর পরিষ্কার রাখতে, যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ সুস্থ পরিবেশ।’
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে বিষয়টি সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে, কী সেটি? সেটি হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। অর্থাৎ আমি-আপনি আমরা সবাই যে পরিবেশটাতে থাকি, সেই পরিবেশটি কেমন? আমার আশপাশটি কেমন?
‘আপনারা নিশ্চয়ই অধিকাংশ ক্ষেত্রে খেয়াল করে দেখেছেন- আমরা ঢাকা শহরের যেকোনো রাস্তাঘাটে হোক, যেকোনো এলাকায় হোক, যেকোনো জেলা শহরের এলাকায় হোক, রাস্তাঘাট হোক এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জেও আমরা দেখেছি যে, যেখানে বাজারঘাট বা রাস্তা অর্থাৎ চলাচল বেশি- সেই জায়গাগুলোতে চারিদিকে একটা জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে; আমরা যখন ছোট ছিলাম আজ থেকে ৪০ বছর আগে, ৩০ বছর আগে দৃশ্যটা এমন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যটা এইরকম’-যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘সেটা কেমন? চারিদিকে। আমার আপনার আমাদের ব্যবহার করা হাতের টিস্যু অথবা আমার আপনার খাওয়া চিপসের প্যাকেট অথবা বাসায় ব্যবহার করা রান্নার তেল— যে তেলের প্লাস্টিকের বোতলটি অথবা আমি বা আপনি পানি পান করেছি প্লাস্টিকের বোতল থেকে, সেই বোতলটি এ রকম আরও অনেক ধরনের আবর্জনা যত্রতত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে, কোনো জায়গায় একটু বেশি জমা হয়ে আছে অথবা যত্রতত্র লোকালয়ের চারিদিকে ছড়িয়ে আছে।’
এই অবস্থাটা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেছেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে, যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন টিস্যু ছড়িয়ে থাকত, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকত, আপনার কাছে কি ভালো লাগত? দেখতে নিশ্চয়ই না। আমাদের কারও কাছেই ভালো লাগত না।’
‘কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ শস্য শ্যামলা আমার এই ভুবন। আসুন না, আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেটে চলে অথবা রিকশায় যায় অথবা বাসে চলাচল করে; এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়— বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয় আবর্জনা জমে থেকে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হয়ে যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনাগুলো না ফেলে দেই, আমরা যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এই আবর্জনাকে জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায় যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে, ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
দেশের বিভিন্ন জেলা সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন অনেক জায়গায় আমি দেখেছি গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। হয়তো কোনো একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি— দেখেছি পুকুরের ভেতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে অথবা পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে।’
‘অথচ একসময় কিন্তু এই পুকুর পাড়েই মানুষ বিকালে বসতো, গল্প করত পরিবার পরিজন নিয়ে। এখন আবর্জনার জন্য সেটি সম্ভব হয় না।’
তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, বিভিন্ন জেলা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে— আমরা পার্কগুলোয় যাচ্ছি বিকাল বেলায় পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে, কিন্তু গিয়ে যখন আমরা চীনাবাদাম খাচ্ছি অথবা চিপস খাচ্ছি অথবা বাচ্চারা লজেন্স খাচ্ছে, খেয়েই আমরা জিনিসটা সেখানে ফেলে দিচ্ছি। আমরা যখন যাই, তখন যারা পরিচ্ছন্নকর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে, কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি, তখন আর সেটি আগের মতো পরিষ্কার থাকছে না।’
‘কিন্তু যদি সেটা পরিষ্কার থাকত, আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন, আপনার পরে সেখানে যে যাবে, সেও সেই পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’




