তিন সীমান্তে ৬০ জনের পুশইন ঠেকাল বিজিবি

সংগৃহীত ছবি
সীমান্তের অন্তত তিনটি স্থান দিয়ে ৬০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সকালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা এসব পুশইন প্রতিহত করলেও, তাদের মধ্যে অন্তত ৩৯ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যকার চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত এলাকা জুড়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে বিজিবিকে।
এই ৬০ জনের মধ্যে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট কামাতটারী সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল ১০ জনকে। যে দলে ছিল নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুও। গতকাল ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন ৬১ বিজিবির পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলে।
পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান জানালেন, সীমান্তের ৮৪৬ নম্বর প্রধান পিলারের উপপিলার ১ ও ২-এর মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে তা প্রতিহত করেন বিজিবি সদস্যরা। তারা সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে ভারত অংশে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।
এ ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম।
প্রায় একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল ১১ জনকে, যাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকতে দেয়নি বিজিবি। দিনভর তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তের মেইন পিলারের কাছে ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে তাদের সতর্ক করে বিজিবি। তখন তারা ভারত অংশে চলে যায়।
গতকাল ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়েও ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় সে চেষ্টা সফল হয়নি।
৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বললেন এ ঘটনার বিস্তারিত। তার ভাষ্যে, বড়বাড়ি বিওপি দিয়ে ১০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করার খবর পেয়ে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে শূন্যরেখায় আটকে রাখা হয়।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানালেন, হাপানিয়া সীমান্তের ২৩৮ নম্বর পিলার দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছয় পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে; কিন্তু ঠেকিয়ে দেন বিজিবির সদস্যরা। তবে তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ, তারা এখন শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। যে দলে ছিল ১২ পুরুষ, ১০ নারী জন ও ৬ শিশু। সীমান্তের ২০৩/৫-আর পিলারের কাছ দিয়ে পুশইন করে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে তারা সীমান্ত পেরিয়ে বিওপিসংলগ্ন বেগুনবাড়ি গ্রামের ভেতর চলে এলে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেন। বিজিবি তাদের শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে গতকাল পর্যন্ত তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল।
একই দিন দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ১০টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহতের কথা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিজিবি। সে সঙ্গে সীমান্তে জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়।
এসব পুশইন ঠেকানো গেলেও মিয়ানমার থেকে বান্দরবানের থানচি সীমান্তপথে ৪৭ খুমির অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিজিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের যেকোনো সময় তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৬৯ ও ৭০ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে বিজিবি জওয়ানরা রেমাক্রী ইউনিয়নের হ্নৈকু খুমিপাড়া থেকে খুমি জাতিগোষ্ঠীর ওই ৪৭ নাগরিককে আটক করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীরা মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতুয়া টাউনশিপের খানচালাংপাড়া ও সাম্পিংপাড়ার বাসিন্দা। ওই এলাকায় আরাকান আর্মির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় খুমি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রথম ধাপে ওই ৪৭ জন সীমান্ত অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পিলার নাম্বার ৭০ ও ৭১-এর মধ্যবর্তী সুবিধাজনক একটি পয়েন্ট দিয়ে তাদের পুশব্যাক করা হবে।




