মায়ের মাদকবিরোধী অভিযানের জেরেই কি অপ্রতিম হত্যা?

নিহত অপ্রতীম। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা নাহিদের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া বহিরাগতদের একজন ছিলেন অপ্রতিম হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি ফাহাদ। ওই অভিযানের পর ফাহাদ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছিলেন বলে মনে করেছেন অপ্রতীমের বাবা ও সে-সময়কার সহকারী প্রক্টর। তাদের ধারণা, সেই ক্ষোভ থেকেই ঘটেছে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আব্দুল হাকিম চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পান তৎকালীন সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদ। দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন তিনি। ওই অভিযানে মাদকসহ সাতজন বহিরাগতকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি। তাদের মধ্যে ফাহাদও ছিলেন বলে জানিয়েছেন তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে দশজনকে মাদকসহ আটক করেছিলাম, তার মধ্যে ফাহাদ অন্যতম। একটা বাচ্চা ছেলের (অপ্রতিম) কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া খুব সহজ ছিল। তারা চাইলে অপ্রতিমকে অজ্ঞান করেও ফোনটা নিয়ে নিতে পারতো। কিন্তু তারা বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছে। একটা সুদীর্ঘ পরিকল্পিত হত্যা বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা মাদকের এই সিন্ডিকেটে হাত দিয়েছিলাম, তাদের সবাইকে পরিবারসহ নজরে রাখছে তারা। এই সিন্ডিকেটটা ভয়াবহ। এদেরকে মূলে উপড়ে ফেলতে না পারলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের বয়স ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা নাহিদের ছেলে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।




