কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শনিবার রাত সাড়ে ১২টা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে গভীর ঘুমে ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটির গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মাদ কলিম উদ্দিন (৬০)। ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর কলিম দরজা খোলেন। প্রথমে ছেলে (যুবলীগ কর্মী) রিফাত আহমেদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বললে রিফাতের বাবাকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
কিন্তু, কৃষক কলিমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান। তার পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে।
আসকের মতে, আইন প্রয়োগের নামে পরিবারের একজন সদস্যকে খুঁজে না পেয়ে তার কোনো স্বজনকে গ্রেপ্তার করা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন ব্যক্তির দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩২ অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৯ অনুচ্ছেদেও নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আসকের দাবি, কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ না থাকলে তাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে আটক, গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে।



