বিশ্ব কাঁঠাল দিবস আজ

সংগৃহীত ছবি
প্রতি বছর ৪ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য কাঁঠালের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও পরিবেশবান্ধব খাদ্য হিসেবে এর গুরুত্ব তুলে ধরা।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচিত ফল কাঁঠাল। তবে এখন এটি বিশ্ব জুড়ে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁঠালের চাহিদাও বেড়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাছে জন্মানো ফল কাঁঠাল। একেকটি কাঁঠালের ওজন ৩০ থেকে ৪০ কেজি। কখনো আরও বেশি হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সুপারমার্কেটে টিনজাত ও হিমায়িত কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্ব কাঁঠাল দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর খাদ্যআঁশ। এসব উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। কাঁঠালের বীজেও রয়েছে প্রোটিন ও খনিজ উপাদান।
কাঁচা কাঁঠাল এখন নিরামিষভোজীদের কাছে মাংসের জনপ্রিয় বিকল্প। এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা রান্না করা মাংসের মতো। তাই এটি দিয়ে বার্গার, টাকো, বারবিকিউ, কারি, স্যান্ডউইচ, পিৎজাসহ নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয়।
দিবসটি পালনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো কাঁঠাল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে এর ব্যবহার বাড়ানো। কাঁঠাল থেকে জ্যাম, জেলি, চিপস, আচার, ক্যান্ডি, জুস ও গুঁড়া তৈরি করা যায়। এতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয়ের সুযোগ বাড়ে।
পরিবেশের জন্যও কাঁঠাল গুরুত্বপূর্ণ। কাঁঠালগাছ তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ফল দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে টেকসই খাদ্যব্যবস্থায় কাঁঠালকে সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল। বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনেও বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে। দেশের প্রায় সব এলাকায় এর চাষ হয়।
পাকা কাঁঠাল ফল হিসেবে খাওয়া হয়। কাঁচা কাঁঠাল রান্না করা হয় সবজি হিসেবে। বীজও বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। কাঁঠালগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয় আসবাবপত্র।
বিশ্ব কাঁঠাল দিবস শুধু একটি ফলের উদযাপন নয়। এটি পুষ্টিকর খাদ্য, টেকসই কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং কাঁঠালের বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।




