হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একজন ব্যক্তিকে অল্পসময়ে খুঁজে বের করতে কী লাগে? নাম, ঠিকানা, ছবি, ফোন নাম্বার। অনেক সময় হয়তো আঙুলের ছাপ। তবে এগুলোর একটাও যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে কী হবে? ২০৮০ সালের একটি পূর্বাভাস বলছে, ভবিষ্যতে ডিএনএ দিয়েই বের করা যাবে যেকোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব। তার জীবনের সব তথ্য। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ডিএনএ দিয়ে মানুষ শনাক্ত করার বিষয়টি অনেক পুরনো। তবে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের ডিএনএ না দিলেও তাকে সহজেই খুঁজে বের করা হবে সম্ভব। কাছের আত্মীয়দের ডিএনএ যাচাই করে। অনেকটা ক্রাইম ফিকশন মনে হলেও এমন ভবিষ্যদ্বাণীই দিয়েছে কানাডাভিত্তিক সফটওয়্যার ও পরামর্শবিষয়ক ওয়েবসাইট কুয়ান্টমরান ফোরসাইট।
২০৮০ সালে বৃদ্ধি পাবে জিনগত শনাক্তকরণ, অর্থাৎ জিনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনেক মানুষকে শনাক্ত করা যাবে সহজেই। ওয়েবসাইটটি উল্লেখ করে, ব্যক্তিগত ডিএনএ পরীক্ষা নিজের বংশপরিচয় বা ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার একটি উপভোগ্য উপায়, তবে এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি বা অগোচরেই অন্যেরা তাকে শনাক্ত করার সুযোগও পেতে পারে। এতে গোপনীয়তা বিঘ্ন হতে পারে অনেকের। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির প্রভাববিস্তারে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বহু ইতিবাচক দিক। জিনগত ডেটাবেজ ব্যবহার করে ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আগেভাগেই অনুমান করা যেতে পারে। এ কারণে রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়ে উঠবে সহজ। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিনগত তথ্যের মাধ্যমে শনাক্ত বা তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে জিনগত ডেটাবেজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। তবে এক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপত্তি বা বিরোধিতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নানা ওষুধ আবিষ্কারেও বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করবেন অনেকের জিনগত তথ্য। সরকারি ডেটাবেজে বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে সবার জিনের বর্ণনা। ভবিষ্যতে লেনদেন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় অনন্য এই জেনেটিক ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকতে পারে ব্যাংক এবং অন্যান্য সংস্থা।







