বাঁশ খেয়েছেন, বাঁশপাতার চা খেয়েছেন কখনো?
- আগারগাঁও বৃক্ষমেলায় মিলছে বাঁশপাতার চা, সঙ্গে ৬০ প্রজাতির বাঁশের চারা

সংগৃহীত ছবি
চা-প্রেমীদের জন্য ভিন্ন স্বাদের একটি পানীয় নিয়ে এসেছে জাতীয় বৃক্ষমেলা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এ দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ‘বাঁশপাতার চা’।
মেলার ২৪-২৫ নম্বর স্টলে কোয়ান্টাম ব্যাম্বুরিয়ান নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৬০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি বাঁশের চারা, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য এবং বাঁশপাতার চা নিয়ে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বান্দরবানের লামা থেকে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কিউরেটর সাইফুদ্দিন সাইফ জানালেন, চীনে বাঁশপাতার চা বেশ জনপ্রিয়। সেখান থেকে ধারণা নিয়ে বাংলাদেশেও এটি পরিচিত করার চেষ্টা করছেন তারা। তার দাবি, বাঁশপাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সিলিকার মতো উপাদান রয়েছে। যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
‘গত বছরের বৃক্ষমেলায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে এই চা পান করানো হয়েছিল। বর্তমানে চীনের একটি প্রজাতির বাঁশের পাতা দিয়ে চা তৈরি করা হলেও ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির বাঁশপাতা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’—যোগ করেন তিনি।
শুধু চা নয়, মেলায় বাঁশের তৈরি বোতল, মগ, ফুলদানি, মোবাইল স্ট্যান্ড, ফাইল হোল্ডারসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই তাদের লক্ষ্য।
সাইফুদ্দিন সাইফ বললেন, ‘বাঁশকে শুধু নেতিবাচক অর্থে না দেখে শিল্প ও পরিবেশবান্ধব সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার ভাষ্য, বাঁশ দিয়ে ফার্নিচার, কাগজ, হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করা সম্ভব।
‘তাদের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২১০ প্রজাতির বাঁশ এবং ১১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় বনজ গাছ। মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য বিরল প্রজাতির বাঁশ ও গাছের চারাও প্রদর্শন করা হচ্ছে।’—যোগ করেন তিনি।




