শুভ জন্মদিন কবি টি এস এলিয়ট
পোড়োজমিতে দাঁড়িয়ে কবিতার জন্মান্তর ঘটিয়েছেন যে কবি

সিসিল বিটনের আলোকচিত্রকর্মে টি. এস. এলিয়ট (জুলাই, ১৯৫৬)
বিশ শতকের প্রারম্ভে পৃথিবীটা যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই ইংরেজি কবিতার আকাশে এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ ঘটে। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় একটি কবিতা—‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’। মাত্র ৩৪ বছর বয়সী এক আমেরিকান কবির লেখা এই কবিতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যেন কবিতা নামের প্রাচীন শিল্পপ্রকরণটি আধুনিকতার পথে যাত্রা করে। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ শুধু একটি কবিতা নয়—এটি এমন একটি ঘটনা, এক ভূমিকম্প, যা আধুনিক কবিতার আগে-পরের সময়কে চিহ্নিত করে দেয়। আর এই কবিতার লেখক টমাস স্টেয়ার্নস এলিয়ট— যিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং সম্পাদক; যিনি ইংরেজি ভাষার আধুনিকতাবাদী আন্দোলনের পুরোধা।
কে এই এলিয়ট?
টমাস স্টেয়ার্নস এলিয়টের জন্ম ১৮৮৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে। তার পুরো নাম টমাস স্টেয়ার্নস ইলিয়ট। তার পিতামহ উইলিয়াম গ্রিনলিফ এলিয়ট ছিলেন একজন ইউনিটেরিয়ান মন্ত্রী, আর বাবা হেনরি ওয়্যার এলিয়ট ছিলেন ব্যবসায়ী। জন্মসূত্রে আমেরিকান হলেও ১৯১৪ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং ১৯২৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আর কখনো আমেরিকায় ফিরে যাননি।
এলিয়ট পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ডের মার্টন কলেজে। ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ডে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃত ভাষা অধ্যয়ন করেন। এই প্রাচ্য-দর্শনের অধ্যয়ন তার কবিতায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর শেষে ‘শান্তি শান্তি শান্তি’ সংস্কৃত মন্ত্রের ব্যবহার তার প্রমাণ।
এলিয়টের কবিজীবনের সূচনা হয়েছিল কিশোর বয়সে। চৌদ্দ বছর বয়সে ফিটজগেরাল্ডের অনুবাদে ওমর খৈয়াম পড়ে উৎসাহিত হয়ে তিনি বিষণ্ন, নান্দনিক কিছু চার লাইনের কবিতা লেখেন, যা পরে ছিঁড়ে ফেলেন। ‘হার্ভার্ড অ্যাডভোকেট’ পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয় এবং সেখান থেকেই তাঁর সাহিত্যজীবনের উন্মেষ ঘটে। বোদলেয়ার আর জুলেস লাফোর্গের প্রভাবে তিনি আরও উর্বর হয়ে ওঠেন।
কবিতার জন্মান্তর : ‘দ্য লাভ সং অফ জে আলফ্রেড প্রুফ্রক’ থেকে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’
১৯১৫ সালে ‘দ্য লাভ সং অফ জে আলফ্রেড প্রুফ্রক’ প্রকাশের মাধ্যমে এলিয়ট সবার নজর কাড়েন। এই কবিতাটি সম্পর্কে এজরা পাউন্ড মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার দেখা কোনো আমেরিকানের লেখা মহত্তম কবিতা’। পাউন্ড ছিলেন সেই জহুরি, যিনি এলিয়টের প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন। ‘প্রুফ্রক’ ছিল ইংরেজি ভাষায় আধুনিকতাবাদের প্রথম দাবিদার কবি।
কিন্তু এলিয়টের বিপুল বিস্ফোরণ ঘটে ১৯২২ সালে, ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ প্রকাশের মাধ্যমে। ৪২১ লাইনের এই কবিতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যের আকাশে ওঠে এক নতুন ঝড়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরান, নিরীশ্বরবাদী, তামসিক পৃথিবীর কাহিনি নিয়ে এই বিশাল কবিতা। কবিতাটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত—‘মৃতদের সমাধি’, ‘দাবার খেলা’, ‘দ্য ফায়ার সার্মন’, ‘ডেথ বাই ওয়াটার’ এবং ‘হোয়াট দ্য থান্ডার শেড’। এর বিখ্যাত বাক্যাংশগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এপ্রিল হলো সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম মাস’ এবং ‘আমি এক মুঠো ধুলোয় তোমাকে ভয় দেখাব’।
‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ ছিল এমন এক কবিতা যা ইংরেজি কবিতার প্রাচীন রূপ ও শৈলীর বাঁধন ভেঙে দেয়, কবিতা ও কাব্য-চিন্তার জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, এবং কবিতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, পাঠ ও রচনার ধরনকে পাল্টে দেয়। এই কবিতাই ‘আধুনিকতাবাদ’ নামে পরিচিত সাহিত্য ও শিল্পের যুগকে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করেছিল।
কবিতাটি লেখার পেছনে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত সংকট। এলিয়ট ১৯১৫ সালে ভিভিয়েন হেইগ-উডকে বিয়ে করেন। এই বিবাহ সুখের হয়নি। এলিয়ট নিজেই বলেছিলেন, ‘আমাদের বিয়ে ভিভিয়েনকে সুখ দিতে পারেনি। আমাকে দিয়েছে এমন এক মানসিক অবস্থা, যার ভেতর থেকে বের হয়েছে 'দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’। ১৯২২ সালে তিনি যখন সুইজারল্যান্ডের লেক লেমানে এক গুরুতর বিষণ্নতার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখনই তিনি এই কবিতা লেখেন। কবিতাটি প্রথমে ‘হি ডু দ্য পুলিশ ইন ডিফরেন্ট ভয়েসেস’ নামে পরিচিত ছিল। রচনার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি এটি নিয়ে এজরা পাউন্ডের কাছে যান। পাউন্ড তখন ফ্রান্সে আর এলিয়ট সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার ছুটিতে। পাউন্ডের ইচ্ছাতেই এলিয়ট দীর্ঘ এই কবিতাটি তার কাছে রেখে আবার চলে যান সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যনিবাসে। ততদিনে এজরা পাউন্ড কবিতাটির ওপর সার্জারি চালিয়ে কাটছাঁট করে ৪৩৩ লাইনে নামিয়ে আনেন এবং শিরোনাম পাল্টে রাখেন ‘The Waste Land’। এই সম্পাদনার কৃতিত্ব এলিয়ট স্বীকার করে কবিতাটি উৎসর্গ করেন পাউন্ডকে— সেখানে তিনি তাকে বলেন ‘il miglior fabbro’ অর্থাৎ ‘শ্রেষ্ঠ কারিগর’।
‘দ্য হলো মেন’ থেকে ‘ফোর কোয়ার্টেটস’ আধ্যাত্মিক অন্বেষণের পথে
‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর পর এলিয়টের কলম থেকে একে একে বের হয় ‘দ্য হলো মেন’ (১৯২৫), ‘অ্যাশ ওয়েন্সডে’ (১৯৩০) এবং ‘ফোর কোয়ার্টেটস’ (১৯৪৫)। ‘দ্য হলো মেন’ এলিয়টের সবচেয়ে অন্ধকার কবিতা। এতে আধ্যাত্মিক ও মানসিক বন্ধ্যাত্বের ছবি আঁকা হয়েছে। ‘আমরা শূন্য মানুষ / আমরা ভর্তি করা মানুষ’—এই বিখ্যাত পঙক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি আধুনিক মানুষের অন্তঃসারশূন্যতার এক নির্মম প্রতিকৃতি।
‘অ্যাশ ওয়েন্সডে’ লেখা হয় ১৯২৭ সালে অ্যাঙ্গলিকান চার্চে তাঁর ধর্মান্তরের পর। এই কবিতায় ধর্মীয় অনুতাপ ও আত্মসমর্পণের সুর। আর ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-কে অনেকে এলিয়টের শ্রেষ্ঠ রচনা বলে গণ্য করেন। চারটি পৃথক কবিতা নিয়ে গঠিত এই বইটি দার্শনিক গভীরতায় ভরা। সময়, চিরকাল, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার জটিল সম্পর্ক এখানে অন্বেষিত। ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এর প্রকাশই এলিয়টকে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ জীবিত ইংরেজ কবি হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়।
সমালোচক ও নাট্যকার এলিয়ট
এলিয়ট ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯২০ সালে প্রকাশিত ‘দ্য স্যাক্রেড উড’ ছিল তাঁর প্রথম সমালোচনা-সংগ্রহ। এই বইয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘ট্র্যাডিশন অ্যান্ড দ্য ইন্ডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট’। এখানে তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘নির্ব্যক্তিকতার তত্ত্ব’ উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, কবির কাজ শুধু নিজের আবেগ প্রকাশ করা নয়; কবিকে ঐতিহ্যের ধারায় নিজেকে বিলীন করতে হবে। ‘হ্যামলেট অ্যান্ড হিজ প্রবলেমস’ প্রবন্ধে তিনি ‘অবজেক্টিভ করিলেটিভ’ ধারণার অবতারণা করেন—যেখানে বাহ্যিক বস্তু বা ঘটনা আবেগের প্রকাশক হয়ে ওঠে।
১৯২২ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত তিনি ‘দ্য ক্রাইটেরিয়ন’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি সমকালীন সাহিত্যিক রুচি গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ফেবার অ্যান্ড ফেবার-এ তাঁর সম্পাদকীয় ভূমিকা তাকে ডব্লিউ এইচ অডেন, স্টিফেন স্পেন্ডারের মতো কবিদের আবিষ্কারে সহায়তা করে।
নাট্যকার হিসেবে তিনি সাতটি নাটক লেখেন। ‘মার্ডার ইন দ্য ক্যাথেড্রাল’ (১৯৩৫) ছিল আর্চবিশপ টমাস বেকেটের হত্যাকাণ্ডের নাট্যরূপ, যা ক্যান্টারবারি ফেস্টিভ্যালের জন্য লেখা হয়েছিল। এই নাটকটিকে ‘আধুনিক কাব্যনাট্যের ভিত্তি স্থাপনকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ‘দ্য ফ্যামিলি রিইউনিয়ন’ (১৯৩৯), ‘দ্য কক্টেল পার্টি’ (১৯৪৯)-এর মতো নাটকগুলোর মাধ্যমে তিনি কাব্যনাট্যের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশ্বসাহিত্যে এলিয়টের প্রভাব
এলিয়টের প্রভাব শুধু ইংরেজি সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দুনিয়ার সাহিত্যে। বিশেষ করে বাংলা কবিতায় তাঁর প্রভাব অপরিসীম। বাংলা কবিতায় এলিয়টের আগমন ছিল এক ভিন্ন ধারার। তার কবিতার সংলাপমূলক গদ্য-ছন্দ, নির্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি আর আত্মসচেতনতা বাংলার আধুনিক কবিকে দিয়েছে নতুন পথের দিশা। বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে বাংলা কবিতায় এলিয়ট ও রবীন্দ্রনাথের প্রভাবই ছিল প্রধান। জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সমর সেন, বিষ্ণু দে—প্রমুখ বাংলা কবিদের ওপর এলিয়টের গভীর প্রভাব ছিল। বিষ্ণু দে তাঁর এক প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘মি. এলিয়টের মহান প্রভাব ছিল এই যে তিনি আমাদের আত্মসচেতনতাকে তীক্ষ্ণ করেছিলেন’। বাংলা কবিতায় আত্মসচেতনতার পরিচয় এনে দেওয়াই ছিল এলিয়টের সবচেয়ে বড় অবদান। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ বাংলায় অনূদিত হয় ‘পোড়োজমি’ নামে, যা বাংলা কাব্য-অনুবাদের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
জীবনের অর্জন ও বিসর্জন
এলিয়টের ব্যক্তিগত জীবন ছিল সংকটে ভরা। ভিভিয়েন ১৯৩৮ সালে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে সেখানেই মারা যান। ১৯৩২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই ব্যক্তিগত যন্ত্রণাই তাঁকে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর মতো কবিতা লিখতে প্রেরণা দিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে তিনি এসপেরি ডিকসনকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর শেষ বছরগুলোতে সুখের সঙ্গী ছিলেন। এলিয়ট ১৯২৭ সালে অ্যাঙ্গলিকান চার্চে ধর্মান্তরিত হন। এই ঘটনা তাঁর কবিতায় গভীর পরিবর্তন আনে। তাঁর ধর্মান্তর ছিল দীর্ঘ সংশয় ও আত্ম-অনুসন্ধানের ফসল, হঠাৎ কোনো লাফ নয়।
১৯৪৮ সালে এলিয়ট সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ‘for his outstanding, pioneer contribution to present-day poetry’। একই বছর তিনি ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অর্ডার অফ মেরিট’-এ ভূষিত হন। নোবেল কমিটি বলেছিল, আধুনিক কবিতায় তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য এই স্বীকৃতি। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতার জন্যই মূলত তিনি এই পুরস্কার পান।
কেন এলিয়ট এখনো প্রাসঙ্গিক
এলিয়ট আজও প্রাসঙ্গিক—কারণ তিনি যে সমস্যাগুলো নিয়ে লিখেছেন, সেগুলো আজও আমাদের কবিতার সব থেকে বড় সমস্যাগুলো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আধ্যাত্মিক শূন্যতা, অস্তিত্বের সংকট, আধুনিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, ঐতিহ্যের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক—এই প্রশ্নগুলো যুগে যুগে মানুষকে ভাবিয়েছে এবং ভাবাবে। ‘দ্য হলো মেন’-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমরা শূন্য মানুষ, আমরা ভর্তি করা মানুষ’—আজকের ভোক্তাবাদী সমাজে এই পঙক্তি আরও প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর ‘পোড়োজমি’ আজকের পরিবেশ সংকট, যুদ্ধ ও উদ্বাস্তু সংকটের যুগে নতুন অর্থ পায়।
একবিংশ শতাব্দীতেও এলিয়ট নতুন করে পড়া হচ্ছে, নতুন করে বোঝা হচ্ছে। ‘এলিয়ট নাউ’ নামের সাম্প্রতিক সংকলনে দেখা যায়, গত দশকে এলিয়টের কবিতা, গদ্য ও চিঠির এক ডজন নতুন খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে。 সমালোচকরা তাকে ঘৃণা করতে ভালোবাসেন—নারীবিদ্বেষী, প্রতিক্রিয়াশীল, ইহুদিবিদ্বেষী বলে; আবার পাঠকরা তাকে ভালোবাসেন—গভীর, বিপ্লবী, অনুরণনশীল বলে। এই দ্বন্দ্বই এলিয়টের প্রাসঙ্গিকতার প্রমাণ।
‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর ‘এপ্রিল হলো নিষ্ঠুরতম মাস’—এই পঙক্তি আজও বাংলায় অনূদিত হয়, উদ্ধৃত হয়। এলিয়ট ছিলেন এমন এক কবি, যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভাঙা পৃথিবীর আত্মার আর্তনাদকে শব্দে বন্দি করেছিলেন। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এ তিনি দেখিয়েছেন এক বিরান পৃথিবী, যেখানে মানুষ আধ্যাত্মিক শূন্যতায় ভুগছে। আবার ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এ তিনি খুঁজেছেন সময়ের বাইরের এক চিরন্তন সত্য। তিনি ছিলেন একাধারে ধ্বংসের কবি আর পুনর্নির্মাণের কারিগর—পোড়োজমির বুকে দাঁড়িয়ে যিনি আধ্যাত্মিক পুনর্জন্মের সন্ধান করেছেন। আর সেই সন্ধানই তাকে ইংরেজি ভাষার বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।










