Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
উপকূলে আশার আলো মিনারা
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

ঝরাপাতার সংসার

আইজ্যাক রবিনসন। ভাষান্তর: সুমন কায়সার
agamir somoy
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬
ঝরাপাতার সংসার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

দাদু আর ইরার সঙ্গে কথা হলো। সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেনারা নাকি দোনেৎস্কের ওপর ব্যাপক গোলা আর বোমা মেরে চলছে। প্রতিদিনই আরও বেশি লোক বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দলে দলে মানুষ সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছুটছে। কেউ কেউ এমনকি রাশিয়াতেও আশ্রয় নিচ্ছে।

ইগরের সঙ্গে ইরার ছয় দিন ধরে দেখা হয়নি। ফোনেও কথা হয়নি। দোনেৎস্ক থেকে আর ভালো খবর বুঝি পাব না।

ভোলনোভাখার খবরে বরং একটু আশা পেলাম। শাসা ওর নতুন স্কুলে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। দাচা থেকে স্কুলটা মাত্র পনেরো মিনিট হাঁটার পথ। সেখানে ছেলেদের টয়লেটে নাকি এক সারিতে চারটা কমোড। মধ্যে কোনো দেওয়াল বা বেড়ার বালাই নেই! আচ্ছা, গ্রামের টয়লেট মানেই কি একটা না একটা সমস্যা থাকতেই হবে?

বাবা মারিওপোলে ডজনখানেকের বেশি পদের জন্য অ্যাপ্লাই করেছে। সবচেয়ে সম্ভাবনা বেশি যেখানে সেটা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক এনজিওতে ড্রাইভারের কাজ। আঙ্কেল ভ্লাদ ওই প্রতিষ্ঠানেরই কিয়েভ অফিসে কাজ করেন। মারিউপোলেও একটা বড় ফিল্ড অফিস আছে ওদের। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মানবিক সহায়তা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব যে কর্মকর্তার তার সঙ্গে ভ্লাদ আঙ্কেলের বেশ জানাশোনা আছে। কিন্তু চাকরির জন্য তদবির করবেন না তিনি। নিয়োগের বিষয়ে উনাদের প্রতিষ্ঠান তদবির জাতীয় অন্যায্য কাজ একেবারেই বরদাশত করে না নাকি। আর তাই তদবিরের বদলে ভ্লাদ আঙ্কেল ‘যাহার জন্য প্রযোজ্য’ ধরনের একটা গতানুগতিক সনদপত্র দিয়েছেন বাবার নামে। সাক্ষাতকারে কী ধরনের প্রশ্ন করা হতে পারে তার ধারণা দিতে আগের দিন হাতে লম্বা সময় নিয়ে বাবার সঙ্গে বসবেনও তিনি।

ওকেলোর সঙ্গে আমাদের দেখা হওয়ার পর দুই সপ্তাহ কেটে গেছে। স্বীকার করতেই হবে তার সঙ্গে কথা বলে বেশ আকৃষ্ট হয়েছি আমি। অদ্ভূত একটা মানুষ। জটিল সব রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন একেবারে নিজের বানানো কায়দায়—যেন এমন কোনো শিশু, যে জীবনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটা বইও পড়েনি। অথচ তার কথা পুরোই অর্থপূর্ণ আর যৌক্তিক শোনায়। অন্তত কিমোর ক্লাসের লেকচারারদের মুখে যা শুনি তার চেয়ে বেশি অর্থপূর্ণ তো বটেই।

আমার মনটা খুব অস্থির কয়েকদিন ধরে। ওকেলোকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। মাথার মধ্যে কেবলই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তা হলো: ইগর কেন স্বেচ্ছায় যুদ্ধে গেল? ও ভালোই করেই জানতো, কীসে নাম লেখাচ্ছে । এ এমন এক মিশন যার সাফল্য মাপা হয় কিনা প্রতিপক্ষের কতজনকে হত্যা করা গেলো তার ভিত্তিতে। আপনি হয়তো তাদের শত্রুসেনা বলে একটু স্বান্তনা পাবেন। রাতে ঘুমানোটা একটু সহজ হবে। কিন্তু তারা তো জলজ্যান্ত মানুষ। আমাদের মতই রক্তমাংসে গড়া। ইগর যে ব্যাখা দিয়েছিল আমি কখনোই তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি নাই। এর মধ্যে নিশ্চয়ই আরও গভীর কিছু বিষয় আছে ও যা আমাকে বলেনি।

ইগর যে বিচ্ছিন্নতাবাদী পক্ষে যোগ দিয়েছে কাতিয়াকে আমি সেকথা বলি নাই। জানি, ওর কাছে সত্যিটা বলা উচিত ছিল। কিন্তু তারপর কী হবে, সেই ভয়টা আমার আছে। ও কি আমাকে বিশ্বাসঘাতক মনে করবে? আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না? কে জানে, রুমমেট বদলাতেও চাইতে পারে হয়তো। আমার আসলে কাতিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ঝুকি নেওয়ার সাহস নাই। অন্তত এই মুহূর্তে। নিকিতার ব্যাপারেও একই কথা।

আমি ওকেলোকে মেসেজ করে জিজ্ঞেস করলাম, আগামী শুক্রবার অফিস শেষে একটু বসে কথা বলার সময় হবে কি না তার। সে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দিল—হ্যাঁ।

ওকেলো একজন অভিজ্ঞ মানবিক সহায়তাকর্মী। এই ব্যাপারটা আমাকে কিছুটা ভরসা দেয়। এটুকু বিশ্বাস আছে যে ইগরকে নিয়ে যা বলব, তা উনি গোপন রাখবেন।

কাতিয়াকে বললাম আমি আজ সন্ধ্যায় হলে থাকবো না। মিথ্যা করে বললাম, আঙ্কেল ভ্লাদের ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবো।

বিকেলে মেট্রো করে প্রথমে দনিপ্রো স্টেশনে গেলাম। সেখান থেকে দনিপ্রো রিভার স্টেশনে যা্ওয়াতে কোন সমস্যাই হলো না। ওকেলেোর সঙ্গে সেখানেই দেখা হওয়ার কথা।

দনিপ্রো রিভার স্টেশনের পরিবেশটা বেশ ভালো লাগলো। দারুণ প্রাণবন্ত। নদীর পাড়জুড়ে ছোট ছোট কিয়স্ক আর রেস্তোরাঁ। সবমিলে একটা ছিমছাম প্রমিনেড। নদী আর কিয়স্কগুলোর মাঝখানে উঁচু কংক্রিটের একটা প্ল্যাটফর্ম। তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা অসংখ্য বিন ব্যাগ। যে যার মতো গা এলিয়ে বসে আছে। একটু তাকাতেই ওকেলোকে দেখতে পেলাম। উনি আমার জন্য একটা বিনব্যাগ বুক করে রেখেছেন।

হাতে ধরা বিয়ারের গ্লাসের অবস্থা দেখে বোঝা গেলো, বেশ কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছেছেন ওকেলো। আমাকে কিছু খেতে চাই কি না জিজ্ঞেস করে এক কাপ কফি এনে দিলেন। পরিবেশটা একটু বুঝে নিতে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম।

চারদিক থেকে গল্পগুজবের জোর আওয়াজ ভেসে আসছিল। বেশিরভাগই তরুণ-তরুণীদের কণ্ঠ। দনিপ্রো নদীকে এখান থেকে অদ্ভুত রকমের মোহনীয় লাগছিল। একটা সেতু নীল আর হলুদ বাতিতে সাজানো—যা কিনা ইউক্রেনের জাতীয় পতাকার রং। বাতিগুলো মৃদু ছন্দে জ্বলানেভা করছিল বলে নদীর পানিতে চলছিল আলো-ছায়ার খেলা। জলের ওপর অনেকদূর ছড়িয়ে পড়ছিল আলোর ঝিকিমিকি।

ঝটপট নদীর দৃশ্যের কয়েকটা ছবি তুললাম। শেষ কবে এর চেয়ে সুন্দর কোনো দৃশ্য দেখেছি, মনে করতে পারলাম না—হয়তো ক্রিমিয়ায়। ছবিগুলো দেখে শাসার একেবারে তাক লেগে যাবে! ওকেলোর কোনো ছবি তুললাম না। ছবিগুলো তো মায়ের ফোনে যাবে। মা ওকেলোর কথা জানুক তা এখনই চাইনা আমি ।

ওকেলোর প্রতি আমার যতই শ্রদ্ধা থাকুক, কলেজের সার্কেলের বাইরে প্রথম ঘনিষ্ঠ হওয়া মানুষটি একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ—এ কথা বাবা-মাকে এখনই জানাতে আসলে এখনও তৈরি না আমি। আমার বাবা-মা সোভিয়েত আমলের সমাজে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ব্যাপারে সেই বর্ণবিদ্বেষী সংস্কার নিয়ে বড় হয়েছেন। নববর্ষের ছুটির সময় বাড়ি গেলে ধীরেসুস্থে ওদের ওকেলোর কথা বলব।

দারুণ পোশাক পরা সতেরো-আঠারো বছরের একটা মেয়ে ফুড কোর্ট আর নদীতীরের মাঝের দেয়ালটার ওপর দিয়ে কায়দা করে হাঁটছে। দেয়ালটা বেশ উঁচু। নির্ঘাত বন্ধুদের তাক লাগাতেই ওর এই কাণ্ড। ওকেলো কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আমার দিকে মুখ ফেরাল। শুরু হলো আমাদের কথোপকথন:

ওকেলো: জানো, স্বাধীনতা মানে একা দাঁড়াতে পারা। ভয় না পেয়ে একা দাঁড়ানো—আর তার পরিণতি যা-ই হোক, সেটা সামলানোর সাহস রাখা।

আমি: কিন্তু এই মেয়েটা তো আহাম্মকি করছে! ও এটা করে যতটা মনোযোগ পাচ্ছে তার জন্য কী এরকম ঝুঁকি নেওয়া যায়? দেয়াল থেকে পড়ে গেলে কী অবস্থা হবে ভাবতে পারেন? অপমান তো আছেই, সঙ্গে হাত-পাও ভাঙতে পারে।

ওকেলো: কিন্তু মন যেটা চায় তা করতে পারার আনন্দটাও কি কম?

আমি: আনন্দ কি এতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

ওকেলো: আচ্ছা, কোন না কোন কারণ দেখিয়ে জীবন থেকে যদি সব আনন্দ ঝেড়েই ফেলি তাহলে কীসের জন্য বেঁচে থাকা বলো তো?

আমি: আপনিও একটু হাঁটুন না দেওয়ালটার উপরে উঠে! ভালো লাগতে পারে।

ওকেলো: সত্যি বলতে, মনে মনে আমি ইতিমধ্যেই দেওয়ালটার উপরে উঠে হাঁটছি। নিজেকে বোঝাচ্ছি, কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে এটা করছি না। তবে বিশ্বাস করো, ঝুঁকি না থাকলেও আমি ওখানে উঠতাম না।

আমি: কেন উঠতেন না, বলুন তো ?

ওকেলো: একটা মাঝবয়সী, ভুঁড়িওয়ালা কৃষ্ণাঙ্গ লোক যদি ওই দেয়ালের ওপর দিয়ে হাঁটে—লোকজন কী মনে করবে?

আমি: অন্যরা কী মনে করবে তা নিয়ে আপনি এতটা ভাবেন?

ওকেলো: সেটা অবশ্য আমি মুখে স্বীকার করব না। শুধু বলব, দেওয়ালের ওপর দিয়ে হাঁটা ঝুঁকির কাজ। আমরা আসলে সবসময় নিজেদের সঙ্গে এভাবেই মিথ্যা বলি। হুটহাট বলে ফেলি, গোটা পৃথিবী আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। কিন্তু নিজেদের মাথার ভেতর থেকেই আসা ‘কোলাহলে’ সায় দিয়ে অহরহ কতোটা স্বাধীনতা ছেড়ে দিই, সেটা সহজে চোখে পড়ে না।

আমি: সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে, সামাজিকভাবে আরেকটু বেশি গ্রহণযোগ্য হতে যদি সামান্য স্বাধীনতা ছেড়েও দিই—তাতে এমন কী সমস্যা আছে?

ওকেলো: তোমার কথাটা শুনতে ওপরে ওপরে যুক্তিসঙ্গতই লাগে। কিন্তু এটা একটা পিচ্ছিল ঢালের মতো—কোথায় থামতে হবে তুমি তা জানো না। একসময় তোমার ভেতরের ‘তুমি’টা মরে যায়, অথচ তুমি টেরও পাও না। তুমি পরিণত হও সুন্দর করে সাজানো এক জোম্বিতে। অন্যের ঢুকিয়ে দেওয়া চিন্তা-ভাবনা মাথায় নিয়ে সমাজে চলে ফিরে বেড়াও।

হঠাৎ করেই একটা ভারী শীতল স্রোত যেন আমার ভেতর দিয়ে বয়ে গেল। আমি কি ইতিমধ্যেই ভেতর থেকে মরে গেছি? না হলে, আমি মাকে ওকেলোর একটা ছবি পাঠাইনি কেন? ওকেলোকে আমার ভালো লাগে। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। তার সঙ্গে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে। সোভিয়েতদের যদি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের নিয়ে সংস্কার থেকে থাকে, আর আমার বাবা-মা তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েও থাকেন—সেটা তাদের সমস্যা, আমার নয়।

দেয়ালের ওপর উঠে হাঁটা মেয়েটাকে আমি নির্বোধ ভেবেছিলাম। ও তো আসলে আমার চেয়ে বেশি জীবন্ত।

ওকেলো: তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন ধাক্কা খেলে। আর না হয় হঠাৎ মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। আমি কি এমন কিছু বললাম, যাতে তুমি কষ্ট পেয়েছ?

আমি: না, না, না। একেবারেই এলোমেলো একটা চিন্তা হঠাৎ মাথায় ঢুকে পড়েছিল আর কী! আমি কি তোমার সঙ্গে একটা সেলফি তুলতে পারি?

ওকেলোর সঙ্গে একে একে তিনটা সেলফি তুললাম আমি। পেছনে রইলো হলুদ-নীল আলোয় সাজা সেতুটা।

একটা ছবিতে ওকেলোকে কিছুটা গোমড়ামুখো দেখাচ্ছে। সত্যি বলতে, এই অভিব্যক্তিটাই ওর সবচেয়ে স্বাভাবিক চেহারা। দ্বিতীয়টায় চোখ বন্ধ। তৃতীয় ছবিটায় মুখে মেকি হাসি। উনি অবশ্য শেষেরটাই পছন্দ করলেন। সাশার জন্য মায়ের ফোনে পাঠিয়ে দিলাম ছবিটা।

আগেরবারের মতো এবারও ওকেলো তার সোভিয়েত ইতিহাসের জ্ঞান ঝাড়তে শুরু করলেন। এবারের বিষয় পঞ্চাশের দশকের রিভার স্টেশন আর কাছেই কিয়েভ গ্রেইন এলিভেটর। যুদ্ধ-পরবর্তী কিয়েভের অবকাঠামো আর সোভিয়েত আমলের শস্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে গেলেন তিনি। তারপর একসময় বুঝতে পারলেন এ আলাপে আমার তেমন আগ্রহ নেই। কথা থেমে গেল ওকেলোর। ফিরলেন প্রশ্নোত্তরে।

ওকেলো: তাহলে বলো তো, আমার সঙ্গে কথা বলতে এলে কেন?

আমি: ওকেলো, একটা বিষয় আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন? একটা বাচ্চা স্কুলে সহপাঠীদের কিলঘুঁষি মারলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাকে বকা দেন। বাচ্চাটা যখন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে চায় কেন সে কাজটা করেছে তখন বলা হয়, কারণ যাই হোক- তার ঘুঁষি মারা ঠিক হয়নি। এভাবেই শিশুটা বেড়ে ওঠে হয়। বাবা-মা, প্রতিবেশি এবং সমাজই তাকে এভাবে বড় করে তোলে।

একজন মানুষকে মেরে ফেলা তো ঘুঁষি মারার চেয়ে লাখ গুণ বেশি গুরুতর। অথচ সেই একই শিশু যখন বড় হয়, তখন প্রত্যাশা করা হয় যে সে যুদ্ধে যাবে এবং আরেকজন কিংবা যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যা করবে। ছোট পরিসরে যে কাজটা অন্যায়, সেটাই লক্ষ গুণ বড় হয়ে হঠাৎ ন্যায় হয়ে যায় কীভাবে?

ওকেলো: একজনকে ঘুঁষি মারা আর যুদ্ধে কাউকে হত্যা করার মধ্যে হয়তো সোজাসাপ্টা কোনো যোগসূত্র নেই।

ধরো, লোকটা যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল তার নিজের শহর আক্রান্ত হয়েছিল বলে। সে ক্ষেত্রে তুমি বলতে পারো, সে নিজের লোকজনকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল, শান্তির পথ ত্যাগ করার নয়। সেভাবে দেখলে, মানুষটা হয়তো আগের মতোই আছে—শুধু পরিস্থিতি তাকে সম্পূর্ণ অন্য একটা ভূমিকায় ঠেলে দিয়েছে। আসলে পুরো প্রেক্ষাপট না জেনে বিচার করা কঠিন।

(চলবে)

    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement placeholder
    Advertisement placeholder
    উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, মামলা জরিমানা

    উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, মামলা জরিমানা

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৩

    র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি গঠন নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

    র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি গঠন নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২৯

    মেট্রোর শেষ ১ কিলোমিটারেই সাড়ে ৪ বছর

    মেট্রোর শেষ ১ কিলোমিটারেই সাড়ে ৪ বছর

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৮

    ইসলামে আমানতদারের দায়িত্ব

    ইসলামে আমানতদারের দায়িত্ব

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩

    সঙ্গ নিঃসঙ্গের উত্তম

    সঙ্গ নিঃসঙ্গের উত্তম

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৭

    যারা থেকে যায়

    যারা থেকে যায়

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫

    সি পার্লের শেয়ার কারসাজি

    সি পার্লের শেয়ার কারসাজি

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১

    মানিকগঞ্জে স্কুল-জনবসতি ঝুঁকিতে রেখেই ইজারা

    মানিকগঞ্জে স্কুল-জনবসতি ঝুঁকিতে রেখেই ইজারা

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১

    পাহাড়ে পাহাড়ে অপেক্ষার কান্না

    পাহাড়ে পাহাড়ে অপেক্ষার কান্না

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫

    ৩৫ আলামত ফরেনসিক ল্যাবে, এখনো নেওয়া হয়নি আসামিদের ডিএনএ

    ৩৫ আলামত ফরেনসিক ল্যাবে, এখনো নেওয়া হয়নি আসামিদের ডিএনএ

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭

    চ্যাটজিপিটিতে বড় বিভ্রাট, দেখা দিল অস্বাভাবিক আচরণ

    চ্যাটজিপিটিতে বড় বিভ্রাট, দেখা দিল অস্বাভাবিক আচরণ

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০২

    ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশী আটক

    ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশী আটক

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮

    ইসরায়েলকে ৮০ কোটি ইউরোর অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন জার্মানির

    ইসরায়েলকে ৮০ কোটি ইউরোর অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন জার্মানির

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২২

    পুরুষকে ভালোবাসি, কিন্তু আমার নারী হেটার্স বেশি: বাঁধন

    পুরুষকে ভালোবাসি, কিন্তু আমার নারী হেটার্স বেশি: বাঁধন

    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২১

    advertiseadvertise