Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায়দের ভাগ্য বদলাচ্ছেন জুয়েল
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

কথাসাহিত্যিক ফয়জুল ইসলামের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

  • আমি কিন্তু অনেক কথাই না-বলা রেখে দিই
ধ্রুব সাদিক
agamir somoy
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯
শেয়ার করুন:
কথাসাহিত্যিক ফয়জুল ইসলামের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

কথাসাহিত্যিক ফয়জুল ইসলাম ইলিয়াস-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে এক অনিবার্য ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। ১৯৮৯ সালে কথাসাহিত্যের আঙিনায় তার সৃজনশীল যাত্রার সূচনা। দীর্ঘ গল্প বা আখ্যান রচনাতেই তার মূল পারদর্শিতা। তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হলো— ‘নক্ষত্রের ঘোড়া’, ‘খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক’, ‘আয়না’, ‘নীলক্ষেতে কেন যাই’, ‘বখতিয়ার খানের সাইকেল’, ‘জমিন’, ‘ঘুমতৃষ্ণা’ এবং উপন্যাস ‘বয়েজ স্কুল ব্যান্ড’। এ ছাড়া মৃত্যুর কয়েক দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আধুনিক গদ্যভাষার সন্ধানে’। অলোকলোকে আবাস নেওয়ার আগে তার সঙ্গে লেখক-সাংবাদিক ধ্রুব সাদিক-এর আলাপচারিতায় তিনি মুখ খুলেছেন কথাসাহিত্যের রূপকাঠামো, বাংলা উপন্যাসের বিবর্তন এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপট-উপযোগী ভাষা ও কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাসহ নানান বিষয় ও বস্তু নিয়ে

 

কথাসাহিত্যিকফয়জুল ইসলামঅপ্রকাশিতসাক্ষাৎকারনক্ষত্রের ঘোড়াকাজললেখা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    কী হচ্ছে জামায়াত-এনসিপিতে? জোটে ভাঙনের সুর, নাকি দর কষাকষির কৌশল?

    কী হচ্ছে জামায়াত-এনসিপিতে? জোটে ভাঙনের সুর, নাকি দর কষাকষির কৌশল?

    সাহিত্যে ‘সযত্ন ভালোবাসার প্রকৃতিবিজ্ঞান’

    সাহিত্যে ‘সযত্ন ভালোবাসার প্রকৃতিবিজ্ঞান’

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী, আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ’

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী, আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ’

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    বদলে যাচ্ছে  জিয়া উদ্যান

    বদলে যাচ্ছে জিয়া উদ্যান

    লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত মিজান, দুই মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

    লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত মিজান, দুই মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

    চিকিৎসক বলেছিলেন আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

    চিকিৎসক বলেছিলেন আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের পর দিশাও রিমান্ডে

    তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের পর দিশাও রিমান্ডে

    অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

    অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

    পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন

    পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন

    ধ্রুব সাদিক: ফয়জুল ভাইয়া, আপনার লেখালেখি শুরুর গল্পটা শুনতে চাই। কেবল অনুরাগের বশে, নাকি ধরে নিয়েছিলেন লেখালেখিই হবে জীবনের ব্রত?

    ফয়জুল ইসলাম: কৈশোরে থাকতে দু-একবার কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলাম। তবে সেই চেষ্টার পেছনে কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা ছিল না। একপর্যায়ে তা থেমেও যায়। এরপর ১৯৮৮ সালে হাসান আজিজুল হকের প্রবন্ধ সংকলন ‘অপ্রকাশের ভার’-এর একটি গ্রন্থ-সমালোচনা লিখি। তখন আমার কয়েকজন লেখক বন্ধু মন্তব্য করেন, ‘তুমি তো গদ্যের মানুষ!’— এই বলে তারা আমাকে কথাসাহিত্যে হাত দিতে অনুপ্রাণিত করেন। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে নিজেকে পুরোদমে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কথাসাহিত্যের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সঁপে দিই।

     

    লেখালেখির জন্য কি আপনার নিজস্ব কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা প্রাত্যহিক নিয়মকানুন রয়েছে? সাহিত্যযাত্রার সূচনালগ্নে কোন বই বা লেখক আপনাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন?

    লেখার ক্ষেত্রে আমার কোনো বাঁধাধরা নিয়মসূচি নেই কিংবা বিশেষ কোনো কৌশলও আমি অনুসরণ করি না। আমার সাহিত্যচর্চার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ-সরল; লেখার আগে ভাবি প্রচুর আর সেই ভাবনাগুলো ছাঁটাই করি তার চেয়েও বেশি। মনের ভেতর যখন অনুভূতির কোনো অপ্রতিরোধ্য স্রোত আছড়ে পড়ে, আমি শুধু তার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকি এবং নিজের অজান্তেই তাতে নিমজ্জিত হই। তারপর একটানে পুরো লেখাটি শেষ করার চেষ্টা করি। লেখকজীবনের গোড়ায় সৈয়দ শামসুল হক, হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ওয়াসি আহমেদ ও শহীদুল জহিরের কথাসাহিত্য আমার মানস গঠনে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল।

     

    আঙ্গিক বা রূপ ও বিষয়বস্তুর সম্পর্ক নিয়ে তো তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। এ দুইয়ের দ্বন্দ্ব ও দ্বিমুখী রূপ আপনি নিজে কীভাবে সমাধান করেন?

    আমার কাছে সবসময়ই মূল বিষয়বস্তু কোনো কথাসাহিত্যের আঙ্গিক বা রূপ গড়ে দেয়। কাহিনিবিন্যাস এবং সেখানে কারা অভিনয় করবে, সেই চরিত্রগুলো চূড়ান্ত করার পর আমি গল্পটা ফুটিয়ে তোলার জন্য সবচেয়ে উপযোগী আঙ্গিকটি খুঁজি। মাঝেমধ্যে একেকটা পটভূমির ওপর ভিত্তি করে এই আঙ্গিকে কিছুটা বৈচিত্র্য আসে, তা পার্থক্যটা দেখতে যত সামান্যই হোক না কেন। অন্তত এযাবৎকাল আমার ক্ষেত্রে এমনটি কখনোই ঘটেনি যে, আগেভাগে কোনো একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিক ঠিক করে নিয়ে তারপর তার উপযোগী বিষয়বস্তু বেছে নিয়েছি।

     

    দীর্ঘ গল্প লেখার প্রবণতা হাসান আজিজুল হকের মধ্যে দেখা গিয়েছে; আপনার ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। আপনার গল্পগুলো ঠিক উপন্যাস বা উপন্যাসিকা নয়, স্রেফ দীর্ঘ গল্প। এটা আগে থেকে নির্ধারণ করে তারপর লেখেন?

    অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি দীর্ঘ গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। গদ্যের এই বিস্তৃত রূপটি মূলত আমাকে অন্তত দুটো সুবিধা দেয়। প্রথমত, যেকোনো পটভূমিকে বিস্তারিত রূপ দেওয়ার জন্য এটি আমাকে এক বড় ক্যানভাস এনে দেয়; দ্বিতীয়ত, চরিত্রগুলোকে বহু মাত্রায় ও নানা স্তরে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ করে দেয়। তা সত্ত্বেও আমি কিন্তু অনেক কথাই না-বলা রেখে দিই। ছোটগল্পের মতো গদ্যে রহস্যের বুনন ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি নিজস্ব কৌশল।

     

    কোনো গল্প যদি মাত্রাতিরিক্ত বর্ণনাবহুল হয়ে ওঠে— যেখানে রূপক কিংবা অবচেতন মনস্তাত্ত্বিক আখ্যানের অভাব স্পষ্ট— তাহলে তার আকর্ষণ ধরে রাখতে পারে? মূল কাহিনিরেখাকে প্রাধান্য না দিয়ে আদৌ গল্প লেখা সম্ভব? পরীক্ষামূলক ছোটগল্প নিয়ে আপনার মত কী?

    এটি মূলত বর্ণনার ক্ষেত্রে এক সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়। তা সে সরল বিবরণই হোক কিংবা চেতনার প্রবাহমূলক বিবরণ; বাক্যের প্রতিটি শব্দ ও রচনার বুননে প্রতিটি বাক্যকে গভীর ভাবনার নিক্তিতে মেপে নিতে হয়। তা না হলে দীর্ঘ বর্ণনায় পাঠকের মন ভারাক্রান্ত ও বিরক্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি থেকেই যায়। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের দীর্ঘ গল্প বা উপন্যাসিকাগুলোতে পরিমিত কিন্তু বিস্তৃত বর্ণনার অহরহ দেখা মেলে। আবার রূপকের নিখুঁত ব্যবহার দীর্ঘ বর্ণনার দীর্ঘসূত্রতাকে অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে। ফলে একজন লেখককে সবসময়ই এই দোলাচলের মুখোমুখি হতে হয়— তিনি কি বর্ণনাকে বিস্তার করবেন, নাকি পাঠকের পাঠযোগ্যতা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে তা কিছুটা গুটিয়ে নেবেন! আমার গল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় সরাসরি রৈখিক বা একমুখী বর্ণনা দেখা যায় না। তবে ছদ্মবেশে হলেও একটা মূল কাহিনিরেখা থেকেই যায়, যা হয়তো আপাতদৃষ্টিতে প্রথম দর্শনে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু কাহিনিরেখা ছাড়া একটি গদ্য স্রেফ চিন্তার বুদবুদ ছাড়া আর কিছুই নয়! একটি নির্দিষ্ট স্থানে কেবল অগোছালো পাথরের স্তূপ সাজিয়ে রাখলে কোনো পাঠকই হয়তো তা দেখতে আগ্রহী হবেন না; গাঁথুনির মসলা ছাড়া তা কখনোই তো আর কোনো ভবনের রূপ পাবে না! তবু মানবসভ্যতার সমগ্র বিকাশ জুড়ে— তা মৌখিক কিংবা লিখিত যে রূপেই হোক— আমরা আমাদের কিংবদন্তি, পৌরাণিক গাথা, লোককথা, রূপকথা কিংবা নীতিকথাকে নানা আঙ্গিকে পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি।

    ধ্রুব শোনো, প্রথাগত ছোটগল্পে জীবনকে এমনভাবে পরিবেশন করা হয়, মনে হয় তা একটি সরলরেখা ধরে এগোচ্ছে। কিন্তু উনিশ শতকের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমান জীবন বহু গুণে জটিল। ফলে জীবনের এই বৈচিত্র্য ও অরেখ-অলেখ রূপটি ফুটিয়ে তুলতে লেখকরা আজকাল নতুন ধাঁচের গল্প তৈরিতে বেশ উদ্‌গ্রীব। জীবনকে এখন বহু কোণ থেকে দেখা যায় এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সমাধানও হতে পারে নানা রকম। দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তনই আখ্যান নির্মাণের জন্য এক নতুন রূপকল্প ও নতুন ভাষার খোঁজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

     

    ইলিয়াস বলেছিলেন, ‘আলালের ঘরের দুলাল’ বা ‘হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা’ বাংলা ঔপন্যাসিকদের জন্য একটি যুগোপযোগী ও প্রাসঙ্গিক রূপকল্প তুলে ধরেছিল, যা পরে বর্জন করা হয়। এর পর থেকে এই ভূখণ্ডের উপন্যাসগুলো মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। ইউরোপীয় ছাঁচ থেকে বাংলা উপন্যাসকে আমরা কীভাবে মুক্ত করতে পারি?

    বাংলা সাহিত্যের ধারায় রূপকথা, পাঁচালী, পুঁথি ও চম্পুকাব্য ইত্যাদির আখ্যানরীতি ও বয়ানরীতির একটি চিরায়ত ধারাবাহিকতা দেখা যায়। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পাঠকদের রুচি ও সাহিত্যবোধ গড়ে উঠেছে প্রধানত ইউরোপীয় কথাসাহিত্যের ধারাকে কেন্দ্র করে। রাতারাতি এই মানস পরিবর্তন করা অত্যন্ত দুরূহ। তা সত্ত্বেও জীবনের উত্তরোত্তর জটিলতার কথা মাথায় রেখে নিত্যনতুন নিরীক্ষার সুযোগ সর্বদাই উন্মুক্ত থাকে। এমন এক নবীন রূপরেখা গড়ে তুলতে বহুজনের যৌথ অবদান প্রয়োজন। আর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিপক্বতায় পৌঁছাতে হয়তো দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হবে। তা ছাড়া এ ধরনের রূপকল্পের অন্বেষণে যেকোনো খামখেয়ালিপনা হয়তো লেখককে অশেষ আনন্দ দিতে পারে, তবে সাধারণ পাঠকের কাছে তা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে— কথাটি সর্বদা স্মরণে রাখা আবশ্যক।


    শিল্পমাধ্যম হিসেবে একটি উপন্যাস প্রকৃতপক্ষে কীসের প্রতিনিধিত্ব করে?

    উপন্যাস মূলত একটি সুনির্দিষ্ট সময়কালে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসরে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবনসংগ্রাম চিত্রিত করে। বলা যায়, উপন্যাসের মূল নিয়ামক তিনটি— মানুষ, স্থান ও কাল। যখন এই নিয়ামকগুলো তাদের স্থানাঙ্কে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মান বজায় রাখে, তখনই কেবল কোনো উপন্যাসকে আমরা এক ‘প্রতিনিধিত্বশীল সৃষ্টি’ হিসেবে আখ্যা দিতে পারি। বর্তমান সময়ে বিষয়বস্তু, নির্মাণকৌশল ও ভাষাশৈলীর দিক থেকে বাংলা কথাসাহিত্যে নানা অসাধারণ নিরীক্ষা চলছে। বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ও পরিচিতিই এ ধরনের অভিনব পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে সম্ভব করে তুলেছে। তবে কখনো কখনো এসব লেখায় সাধারণ মানুষের জীবন যেন অনুপস্থিত থেকে যায়। আমার মনে হয়, কোনো নির্দিষ্ট সময় ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীকে গভীরভাবে বোঝার অভিজ্ঞতার ঘাটতিই অধিকাংশ কথাসাহিত্যিকের সৃজনশীল ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে রাখছে।


    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় যেভাবে যৌনতার প্রকাশ ঘটেছে, সেই নিরিখে বাংলাদেশে যৌনতা নিয়ে লেখা কি সহজসাধ্য?

    যৌন আকাঙ্ক্ষা বা অনুভূতির আদান-প্রদান সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার অন্যতম এক শক্তিশালী মাধ্যম। জীবজগতে যৌনতা যেমন অত্যন্ত সহজাত এক প্রক্রিয়া, মানবজীবনের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে সত্য। শুধু এক রক্ষণশীল সমাজে বসবাস করার কারণে আমরা এ বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলি না। সৈয়দ শামসুল হক ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যৌন মনস্তত্ত্বের নানাবিধ লেনদেন, কামনার তীব্রতা, সেই আকাঙ্ক্ষার প্রাপ্তি কিংবা অপ্রাপ্তির স্বরূপ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সাহসী ও ভিন্নধর্মী সাহিত্যিক নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন। আমি মনে করি, যৌনতার গভীর ও জটিল মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধানে লেখকদের আরও সাহসী হওয়া উচিত। প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করে যেকোনো বিষয়ের সুষমামণ্ডিত ও শৈল্পিক উপস্থাপনকে সাধারণ পাঠক কখনোই অনাদর করেন বলে আমি মনে করি না।

     

    সাম্প্রতিক কথাসাহিত্যে আপনি কোনো অপার সম্ভাবনার জায়গা দেখতে পান? আপনার মনে হয় যে সমসাময়িক লেখকরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে লিখছেন?

    সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে আমি বলব, কোনো লেখককে তার সামাজিক দায় বা অবস্থানের বিষয়ে জোরজবরদস্তি করা যায় না। তদুপরি সাধারণ মানুষের বাইরে কোনো বিশেষ শ্রেণির জীবন তুলে ধরার সম্ভাবনাকেও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যেমন ধর, কোনো অভিবাসী, শিল্পপতি কিংবা একটি গানের ব্যান্ডের জীবনের গল্প। আসল কথা হলো, নিজ অঞ্চলের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার নিরিখে সাধারণ মানুষের স্পন্দনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে আর তারপরই কলম ধরতে হবে তাদের নিয়ে।


    কারও নামই বললেন না, ভাইয়া! আচ্ছা থাক। গিলবার্ট চেস্টারটন বলেছিলেন, একটি সার্থক উপন্যাস আমাদের সামনে উন্মোচন করে তার নায়ক বা চরিত্রের মূল সত্যকে; কিন্তু একটি ব্যর্থ উপন্যাস উন্মোচন করে কেবল তার লেখকের নিজস্ব কদর্যতা বা সত্যকে। একজন লেখক যেহেতু নিজের সৃষ্টির প্রথম ও প্রধান পাঠক, বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

    উপন্যাস মূল্যায়নের মাপকাঠি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে, যা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমার কাছে একটি উপন্যাস তখনই ‘সার্থক উপন্যাস’ হয়ে ওঠে, যখন তা কোনো নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আবহমান কোনো ব্যক্তির জীবনভাষ্যকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলে। তবে কারিগরি দিক থেকে এটি ধরে নেওয়া আবশ্যক যে অনুষঙ্গ, অবয়ব ও ভাষার ব্যবহারে টেক্সটটিতে কোনো অসংগতি থাকবে না। এই গুণের অভাব ঘটলে তা লেখকের ব্যর্থতা হিসেবেই প্রতিভাত হয় এবং সেই সৃষ্টি স্থায়িত্ব পায় না— হয়তো তোষামোদের জোরে সাময়িকভাবে টিকে থাকতে পারে মাত্র। সুতরাং একজন লেখক হিসেবে ভাবনার ছাঁটাইকরণ প্রক্রিয়া আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভাবনা মাথায় আসার পর চরিত্ররা কীভাবে আচরণ করবে, কথা বলবে কিংবা নানাবিধ উদ্দীপনায় কীভাবে সাড়া দেবে, তা সূক্ষ্মভাবে হিসাব-নিকাশ করতে সতর্ক থাকার চেষ্টা করি। লেখা শেষ করার পর সাধারণত পাণ্ডুলিপিটি দীর্ঘদিনের জন্য তুলে রাখি। পরে আবার যখন সেটির কাছে ফিরে আসি, তখন নিজেরই অসাবধানতায় রেখে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত ও সংশোধন করার চেষ্টা করি।

     

    মানুষের অস্তিত্বের দার্শনিক সত্য অন্বেষণ কিংবা আধুনিক মানুষের একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতাবোধ বহু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। একটি উপন্যাস কীভাবে সার্থক বা মহৎ হয়? কেবল দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যক্তির অস্তিত্বের সংকটকে ফুটিয়ে তুললেই কি একটি উপন্যাস মহৎ হয়, নাকি প্রান্তিক মানুষের জীবনের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেও একটি মহৎ উপন্যাস রচিত হতে পারে?

    এটি কোনো দ্বিবিভক্ত বা বাইনারি পছন্দের প্রশ্ন নয়। বিষয়টি মূলত একক ব্যক্তি কিংবা কোনো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে—ইতিহাসের মঞ্চে একটি দেশের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের আচরণ ও জীবনসংগ্রাম কেমন রূপ নেয়, সেটাই আসল বিষয়। তত্ত্বগতভাবে, প্রথমে একটি গ্রামীণ অর্থনীতি শিল্পকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে রূপান্তর হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় মানুষ গ্রাম ছেড়ে নগর, শহর ও মেগাসিটিগুলোতে পাড়ি জমায়। গ্রামীণ পরিবেশে মানুষের সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক বেশ সুদৃঢ় থাকে। কিন্তু নগরায়ণ যখন বৃহত্তর রূপ নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষ একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতাবোধে আক্রান্ত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে গ্রাম থেকে নগরে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ফলে এই পর্যায়ে এসে বিচ্ছিন্নতাবোধ হয়তো সমাজের সর্বব্যাপী কোনো বাস্তবতা নয়। তবে নগর অঞ্চলগুলোতে পরম ও আপেক্ষিক দারিদ্র্যের তীব্র উপস্থিতি ঠিকই বিরাজমান।


    বইমেলার পর প্রকাশিত বইয়ের তো খোঁজই থাকে না, ভাইয়া। আমাদের দেশে বইয়ের দোকানও স্বল্প। আর বাংলাদেশে সাহিত্য সমালোচনার চর্চা বলতে গেলে তো একপ্রকার অনুপস্থিত। আপনার মতে, আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে কোন কোন সংকট গ্রাস করে রেখেছে?

    একটি বই প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন লেখকের মূল দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। লেখকের সৃষ্ট সেই কাল্পনিক বা কথাসাহিত্যের জগৎকে পাঠকের সামনে নতুন আলোয় ব্যাখ্যা করার জন্য আমাদের প্রয়োজন দক্ষ সাহিত্য সমালোচক। তাই বইয়ের পর্যালোচনা বা সাহিত্য সমালোচনা মূলত সাহিত্যিক অনুশীলনেরই আরেকটি স্বতন্ত্র পেশাদার শাখা, যার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও অ্যাকাডেমিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার তীব্র অভাব রয়েছে। আমাদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ উপায়ে সাহিত্য পর্যালোচনার কৌশলগুলো শেখা জরুরি, যেমন— কোনো টেক্সটের সারসংক্ষেপ কীভাবে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করতে হয়, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়, লেখকের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা দুটি দিককেই কীভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে চিহ্নিত করতে হয় কিংবা পূর্বসূরিদের সৃষ্টির সঙ্গে তার কাজের তুলনামূলক বিচার কীভাবে করতে হয় ইত্যাদি। বই বিক্রির বেলায় অনলাইন সোর্স এখানে জরুরি বলে মনে করি। অফলাইন সেলস পয়েন্ট তো রইলই! দ্বিতীয়ত, প্রকাশকরা তাদের প্রকাশিত বইয়ের রিভিউ করিয়ে তা ছাপানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রকাশক কোনো এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারেন, যার মূল কাজ হবে বই প্রমোট করা; বইয়ের আলোচনা, ইউটিউব ক্লিপ, ওয়েবে প্রচার চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

     

    অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে প্রাণবন্ত করার ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাই।

    লেখক-পাঠকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরির ব্যাপারে বাংলা একাডেমি একটা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় তারা পাঠকের উপস্থিতিতে লেখকের সঙ্গে কথা বলছে। কিন্তু মুশকিলটা কোথায় জানো, এই জরুরি ব্যাপারটি নিয়ে কোনো বেসরকারি প্রকাশনীর মাথাব্যথা দেখলাম না। আমার ধারণা, লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে উঠলে একদিকে যেমন মেলায় প্রাণসঞ্চার ঘটবে, অন্যদিকে বইয়ের কাটতি বাড়বে বলে।

     

    গ্রন্থমেলার সঙ্গে প্রকাশনায় জড়িত মানুষের রুটি-রুজির সংস্থানের ব্যাপারটিও জড়িত। কী বলেন!

    আমরা শুধু দেখি যে মেলার স্টল আর প্যাভিলিয়নগুলোতে বিক্রিবাট্টা চলছে। এই চিত্রটিই সব নয়! একটা বই তৈরির পেছনে অসংখ্য মানুষের অবদান রয়ে যায়, যেমন— ছাপাখানার কর্মীরা এখানে শ্রম দেন, বাইন্ডাররা বই বাঁধাই করেন ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রকাশকরা এসব সেবা আউটসোর্স-পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে থাকেন। এসব সেবার বাজারটি ভীষণ প্রতিযোগিতামূলক বলে খুব কম পয়সার চুক্তিতেই প্রকাশকরা সেবা ক্রয় করে ফেলতে পারছেন। তাই যাদের ঘামের ফসল একটি বই, বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছেন তারাই! এ ক্ষেত্রে চুক্তিতে সেবা ক্রয় করার পদ্ধতির বদলে ন্যূনতম মজুরির বিধান অনুসরণ করা উচিত। প্রকাশকরা যদি তাদের কস্টিংয়ে ন্যূনতম মজুরি না ধরে থাকেন, তবে দরিদ্র শ্রমিকরা তা কোনোমতেই পাবেন না। (সংক্ষেপিত)