কণিকা
রুপালি পর্দায় হোর্হে লুইস বোর্হেস

১৯৭১ সালে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী জে পারিনির জীবনে হঠাৎই এসে পড়েন অন্ধ আর্জেন্টাইন লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেস। স্কটিশ কবি অ্যালিস্টার রিডের জরুরি প্রয়োজনে পারিনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মহান এ লেখককে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর। সেই অদ্ভুত সড়কভ্রমণের স্মৃতি নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘বোর্হেস অ্যান্ড মি’, যে সিনেমাটি প্রদর্শিত হলো প্রথমবারের মতো এডিনবরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। পারিনির ২০২০ সালের স্মৃতিকথা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির শুটিং হয় সম্পূর্ণ স্কটল্যান্ডে, স্থানীয় কলাকুশলীদের নিয়ে। বোর্হেসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুইস নেক্কো এবং তরুণ পারিনির ভূমিকায় ফিওন হোয়াইটহেড। পরিচালনা করেছেন মার্ক টার্টলেটব। এতে আরও রয়েছেন অ্যালান কামিং, পিটার মুলান ও মরভেন ক্রিস্টির মতো স্কটিশ তারকারা। সিনেমায় আছে সে সময়ের নানা মজার ঘটনা। ডানফার্মলাইনের কার্নেগি লাইব্রেরিতে ঢুকে বোর্হেস বিশ্বকোষ চেয়ে বসেন। ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা হাতে পেয়ে তিনি বইটি আক্ষরিক অর্থেই চাটতে শুরু করলে গ্রন্থাগারিক হতভম্ব হয়ে বলে ওঠেন— ‘স্যার, বই চাটা যাবে না!’ এমনই সব পরাবাস্তব মুহূর্তে ভরা ছিল সেই যাত্রা। বোর্হেস নিজেকে কল্পনা করতেন ডন কুইক্সোট হিসেবে আর পারিনি ছিলেন তার বিশ্বস্ত সঙ্গী স্যাংকো পাঞ্জা। পারিনির মতে, বোর্হেসের সঙ্গে কাটানো সেই সপ্তাহ ছিল তার লেখকজীবনের ভিত। বোর্হেস তাকে বলেছিলেন— ‘তুমি হবে আমার চোখ’। পরিচালক মনে করেন, সিনেমাটি শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পও বলে।
লিটারারি হাবের সৌজন্যে মাসুম বায়েজীদ





