ব্যথা কমছে মরছে কিডনি, জেনে নিন পেইনকিলারের অজানা ক্ষতি

সংগৃহীত ছবি
মাথাব্যথা, গা-হাত-পা ব্যথা, পিরিয়ডের কষ্ট কিংবা জয়েন্টের ব্যথা একটু কিছু হলেই আমরা চট করে একটা ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার খেয়ে ফেলি। হাতের কাছের ফার্মেসিতে গেলেই প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধগুলো পাওয়া যায় বলে এগুলো এখন আমাদের ঘরোয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন? চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন এই ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস আপনার কিডনিকে নিঃশব্দে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
কিডনি ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্টর অনিল শর্মা এই বিষয়ে জরুরি কিছু তথ্য ও সতর্কতা দিয়েছেন। আমাদের পরিচিত বেশিরভাগ ব্যথানাশক মূলত ‘এনএসএআইডি’ গ্রুপের ওষুধ। এগুলো শরীরে ব্যথা ও প্রদাহ কমায় ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে কিডনিতে রক্ত চলাচলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
নিয়ম মেনে এবং সঠিক মাত্রায় খেলে পেইনকিলার সাধারণত বড় ক্ষতি করে না। কিন্তু যদি কেউ ঘন ঘন বা বেশি মাত্রায় এই ওষুধ গুলো খায়, তবে কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার বা শরীরে পানির অভাব রয়েছে, তাদের জন্য এটি বিষের মতো কাজ করতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কিডনি নষ্ট হওয়া শুরু করলে একদম শেষ পর্যায়ের আগে বাইরে থেকে তেমন কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না।
অতিরিক্ত পেইনকিলার সকল বয়সের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। তবে নিচের তালিকায় যারা আছেন তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিঃ
যাদের আগে থেকেই কিডনির কোনো সমস্যা আছে।
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী।
বয়স্ক মানুষ।
বাত বা আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য যারা নিয়মিত ওষুধ খান।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যারা যখন তখন একগাদা ওষুধ খান।
আমাদের দেশে নিজে নিজে ডাক্তার সেজে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। অনেকেই জানেন না যে, নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি ওষুধ খেলে বা কয়েক পদের ব্যথানাশক মিশিয়ে খেলে তা সরাসরি জীবন কেড়ে নিতে পারে।
মনে রাখবেন, ব্যথানাশক ওষুধ সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়, বরং এটি সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। সবসময় ওষুধের প্যাকেটে লেখা বা ডাক্তারের বলা ডোজ মেনে চলুন। ব্যথার ওষুধ খেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, কারণ শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বারবার ব্যথা হলে শুধু ওষুধের ওপর ভরসা না করে ব্যথার আসল কারণ খুঁজে বের করুন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়া, সঠিক নিয়মে বসা বা শোয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। প্রয়োজনে ডাক্তার আপনাকে কম ক্ষতিকর অন্য কোনো বিকল্প ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন।
কিডনি আমাদের শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে, যা রক্ত থেকে ময়লা বের করে দেয়। অথচ আমরা এর গুরত্ব বুঝি তখন, যখন এটি নষ্ট হয়ে যায়। সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার কিডনিকে এই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে।
পেইনকিলার যেন অভ্যাসে পরিণত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সুস্থ থাকতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
















