চার্জ ফুরিয়ে বিপদে পড়তে না চাইলে যা করবেন

স্মার্টফোন সচল রাখার অন্যতম শর্ত হলো পর্যাপ্ত চার্জ। ছবি: এআই
করোনা-পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগের পাশাপাশি খবর জানা, মোবাইল ব্যাংকিং, অর্থ-উপার্জন কিংবা কাজের প্রয়োজনে তথ্য খোঁজা থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখন নির্ভর করতে হয় এই ছোট্ট ডিভাইসটির ওপর। আর স্মার্টফোন সচল রাখার অন্যতম শর্ত হলো পর্যাপ্ত চার্জ। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার একটি হয়ে দাঁড়ায় ফোনের ব্যাটারি। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে জরুরি প্রয়োজনে ফোন সচল রাখতে চার্জ যতটা সম্ভব সাশ্রয় করা জরুরি। কিছু সহজ কৌশল মেনে চললেই বিদ্যুৎ না থাকলেও ফোনের ব্যাটারি তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিন
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো উজ্জ্বল ডিসপ্লে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে অটো ব্রাইটনেস ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্রিন যত কম সময় জ্বালানো থাকবে, ব্যাটারিও তত কম খরচ হবে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা
পেছনে চলতে থাকা অনেক অ্যাপ নিয়মিত ব্যাটারি ব্যবহার করে। লোডশেডিংয়ের সময় প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপ বন্ধ করে দিন। বিশেষ করে ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ বেশি সময় ব্যবহার না করাই ভালো।
পাওয়ার সেভিং মোড চালু করা
প্রায় সব আধুনিক স্মার্টফোনেই ব্যাটারি সেভার বা পাওয়ার সেভিং মোড থাকে। এটি চালু করলে ফোনের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, পারফরম্যান্স ও সিঙ্কিং সীমিত হয়। ফলে ব্যাটারি তুলনামূলক ধীরে শেষ হয়। চার্জ কমে গেলে এই ফিচারটি বিশেষভাবে কাজে আসে।
দরকার না হলে মোবাইল ডেটা ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখা
মোবাইল ডেটা, ব্লুটুথ, জিপিএস এবং ওয়াই-ফাই প্রয়োজন না থাকলে বন্ধ করে রাখুন। বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ফোন বারবার নেটওয়ার্ক খোঁজার কারণে তুলনামূলক বেশি ব্যাটারি খরচ করতে পারে। তবে জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করবেন না।
ভিডিও দেখা ও গেম খেলা এড়িয়ে চলা
লোডশেডিংয়ের সময় সময় কাটানোর জন্য অনেকেই ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা গেমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এগুলো ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে। জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ ধরে রাখতে চাইলে ভিডিও ও গেমিংয়ের পরিবর্তে কম ব্যাটারি খরচ হয় এমন কাজ বেছে নেওয়া ভালো।
ফোন অতিরিক্ত গরম হতে না দেয়া
অতিরিক্ত গরম পরিবেশে স্মার্টফোনের ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে। তাই চার্জ কমে গেলে ফোনটি সরাসরি রোদে বা বালিশের নিচে রেখে ব্যবহার না করাই ভালো। ভারী অ্যাপ চালানোও এড়িয়ে চলুন।
চার্জ থাকতেই প্রস্তুতি নেয়া
লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর চার্জ বাঁচানোর চেষ্টা করার চেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা ভালো। বিদ্যুৎ আসার সময় ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ করে রাখুন। তবে পাওয়ার ব্যাংকও যেন সবসময় পর্যাপ্ত চার্জযুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জরুরি যোগাযোগের জন্য ফোনের চার্জ সংরক্ষণ করা। বিদ্যুৎ না থাকার সময়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে স্ক্রিন টাইম, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও কানেক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে একই চার্জে ফোন অনেক বেশি সময় সচল রাখা সম্ভব।






