বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে খরচ কত
- কেন এত ব্যয়
- কী সুবিধা মেলে
- বাংলাদেশিদের উপস্থিতি কতটা

ছবি: এআই
বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি অংশে পড়াশোনা করতে বছরে ব্যয় হতে পারে ৮০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি (বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে)। উচ্চ ব্যয়ের কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো মনে হলেও প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর শিক্ষার্থী যাচ্ছেন, যদিও তাদের বড় অংশই বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে পড়াশোনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকাশিত ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু টিউশন ফিই ৬০ থেকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা ও ব্যক্তিগত ব্যয় যোগ হলে মোট খরচ বছরে ৯০ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে ব্যয়বহুল
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নিয়মিতভাবেই উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি), নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ), হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির কিছু পেশাভিত্তিক প্রোগ্রাম, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর মতো প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য মোট ব্যয় প্রায় ৯৭ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে টিউশন ফি প্রায় ৭০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্নাতকোত্তর কর্মসূচির টিউশনও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে প্রোগ্রামভেদে খরচের তারতম্য রয়েছে।
কেন এত খরচ
উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যয় বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, এসব প্রতিষ্ঠানে বিশ্বমানের গবেষণাগার, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ছোট আকারের ক্লাস, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক এবং গবেষণা তহবিলে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন, গ্রন্থাগার, স্বাস্থ্যসেবা, ক্যারিয়ার সাপোর্ট, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচি এবং আধুনিক ক্যাম্পাস পরিচালনায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈশ্বিক র্যাংকিং, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সুনাম ধরে রাখার প্রতিযোগিতাও ব্যয় বৃদ্ধির একটি কারণ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কী সুবিধা পান শিক্ষার্থীরা
উচ্চ ব্যয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা শুধু একটি ডিগ্রিই পান না, বরং বিশ্বমানের গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান, বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের বিস্তৃত সুযোগ পান।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, একাডেমিক সুনাম, নিয়োগদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সূচকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে।
ব্যয়বহুল হলেও সবার জন্য নয়
উচ্চ খরচের কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অনেকের নাগালের বাইরে মনে হলেও বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে উদার স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
উদাহরণ হিসেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বছরে দুই লাখ মার্কিন ডলারের কম আয় করা পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে আবাসন, খাবার ও স্বাস্থ্যবিমার মতো ব্যয়ও সহায়তার আওতায় আসতে পারে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কি আছেন?
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনা করছেন। হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, কলাম্বিয়া, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক রয়েছেন। তবে তাদের বড় অংশই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, গবেষণা অনুদান অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নিয়ে পড়াশোনা করেন।
উচ্চ ব্যয়ের কারণে নিজস্ব অর্থায়নে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে শিক্ষা–সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ব্যয়ের পাশাপাশি বিবেচনায় রাখতে হবে আরও যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু টিউশন ফি নয়; স্কলারশিপের সুযোগ, স্নাতক শেষে চাকরির সম্ভাবনা, গবেষণার পরিবেশ, বসবাসের খরচ, ভিসা নীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগও বিবেচনায় রাখা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বা র্যাংকিংয়ের চেয়ে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও বিষয়ভিত্তিক সুযোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সামঞ্জস্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মনে করেন।




