স্কিন ফ্লাডিং, হাইড্রেশন নাকি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রূপচর্চা নিয়ে কত শত ঢং যে আমরা দেখি তার হিসেব গুনে শেষ করা যাবে না। ইদানীং সবচেয়ে আলোচিত ট্রেন্ড হলো ‘স্কিন ফ্লাডিং’। নাম শুনে মনে হতে পারে ত্বকে কি বন্যার পানি ঢালতে হবে? মোটেও না, সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একের পর এক হাইড্রেটিং পণ্য ব্যবহার করে ত্বককে একদম সজীব আর চকচকে করে তোলাই হলো এর কাজ।
এই কাঠফাটা গরমে নিজের ত্বককে কীভাবে ফ্লাড করবেন আর বিশেষজ্ঞরাই বা কী বলছেন, তা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
স্কিন ফ্লাডিং আসলে কী?
খুব সহজ একটা আইডিয়া থেকেই এই ট্রেন্ডের শুরু। আপনার ত্বক যেন ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে এবং দেখতে একদম বেবি স্কিন এর মতো নরম লাগে, সেটাই এর লক্ষ্য। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতি নতুন কিছু না হলেও ইন্টারনেটের কারণে এখন সবাই এটা নিয়ে মেতেছে। সঠিক নিয়মে করলে এই গরমেও আপনার ত্বক থাকবে একদম ফ্রেশ।
পদ্ধতিটা কী?
স্কিন ফ্লাডিং মানে হলো মুখ ধোয়ার পর ত্বক যখন হালকা ভেজা থাকে, তখনই একের পর এক আর্দ্রতা ধরে রাখার সিরাম বা ক্রিম লাগানো। বিশেষ করে হিউমেক্ট্যান্ট বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড জাতীয় পণ্য ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজা ত্বকে এসব লাগালে তা স্পঞ্জের মতো পানি শুষে নেয় এবং ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে তোলে।
বেশি মানেই কি ভালো?
আমাদের অনেকের ধারণা, যত বেশি মাখব তত বেশি সুন্দর হব। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন সাবধান। সবার ত্বক কিন্তু এক নয়। যার গায়ের চামড়া অনেক খসখসে বা শুষ্ক, তার জন্য স্কিন ফ্লাডিং আশীর্বাদ হতে পারে। কিন্তু আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় বা ঘনঘন ব্রণ ওঠে, তবে এই অতিরিক্ত মাখামাখি হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে আপনার ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে গিয়ে ব্রণের অত্যাচার আরও বাড়তে পারে।
ধাপগুলো কিন্তু মোক্ষম
স্কিন ফ্লাডিং করার সময় পণ্যের সিরিয়াল বা কোনটার পর কোনটা লাগাবেন, সেটা জানা খুব জরুরি। ভেজা ত্বকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড লাগানোর ঠিক পরেই কিন্তু ভালো মানের একটা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। যদি আপনি শেষ ধাপে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আর্দ্রতা লক না করেন, তবে উল্টো বিপদ হতে পারে। বিশেষ করে এই গরমে বাতাস যদি শুকনো থাকে, তবে ওই সিরাম উল্টো আপনার ত্বক থেকে পানি শুষে নেবে, ফলে ত্বক আরও শুকিয়ে খটখটে হয়ে যাবে।
ত্বকের দেয়াল যেন না ভাঙে
আরেকটা বড় ভুল হলো একসাথে অনেক কিছু মেখে ফেলা। বিশেষ করে আপনি যদি রেটিনল বা এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড ব্যবহার করেন, তবে সাবধানে থাকতে হবে। অতিরিক্ত প্রলেপ মাখলে ত্বকের ওপরের সুরক্ষাকারী স্তর বা ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া করা বা চুলকানি হতে পারে। অনেকেই এটাকে ভাবেন ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে বা পার্জিং হচ্ছে, আসলে তা নয় এটা আপনার ত্বকের ওপর অত্যাচারের লক্ষণ।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের আসল টোটকা
ডাক্তাররা বলছেন, স্কিন ফ্লাডিং কোনো জাদুকরী মন্ত্র নয় যে সবার ওপর কাজ করবে। যাদের ত্বক খুব বেশি শুকনো বা যারা কোনো লেজার ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন, তাদের জন্য এটা দারুণ। কিন্তু যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের উচিত হালকা ধরণের জেল বা ক্রিম ব্যবহার করা। সবার জন্য একই নিয়ম খাটে না।
সমাধান কি শুধু পানি?
মনে রাখবেন, শুধু ত্বককে হাইড্রেট করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। মেছতা, ব্রণের দাগ কিংবা বয়সের ছাপ দূর করতে হলে কেবল ময়েশ্চারাইজারে কাজ হবে না, তার জন্য দরকার বিশেষ চিকিৎসা। স্কিন ফ্লাডিং আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে, কিন্তু এটি মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়।
এই গরমে স্কিন ফ্লাডিং হতে পারে আপনার রূপচর্চার নতুন সঙ্গী। তবে চাবিকাঠি হলো ব্যালেন্স বা ভারসাম্য। নিজের ত্বকের ধরণ বুঝুন, দামি পণ্য মানেই যে ভালো তা নয়। অযথা অতিরিক্ত না মেখে পরিমিতভাবে রূপচর্চা করাই হলো আসল স্মার্টনেস। মনে রাখবেন, সুস্থ ত্বক মানেই চকচকে ত্বক।















