কুয়াকাটার সাদা বিস্ময়

পটুয়াখালী শহর থেকে রাত ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে কুয়াকাটার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। রাতের সড়কে তখন যানবাহন তুলনামূলক কম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোর ৫টার দিকে পৌঁছাই কুয়াকাটায়। তখনো পুরোপুরি দিনের আলো ফোটেনি। সমুদ্রের কাছে পৌঁছাতেই শোনা যাচ্ছিল ঢেউয়ের একটানা গর্জন।
পুব আকাশে আলো ফুটতে শুরু করলে সৈকতের চেহারাও স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। সাগরের ওপর সূর্যের প্রথম আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। এবার সৈকতের অন্য অংশে হাঁটতে শুরু করি। তখনই চোখে পড়ে বালুর ওপর ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা ঝিনুক।
কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন অংশে ঝিনুক পাওয়া গেলেও ওই সকালে জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন দোলনা পয়েন্টের দিকে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝিনুকের উপস্থিতি দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। কোথাও ছোট ছোট ঝিনুক, কোথাও আবার একসঙ্গে জমে থাকা অসংখ্য খোলস।
সৈকতের বালুর ওপর ঝিনুক ছড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে জোয়ারের পানি সরে যাওয়ার পর উন্মুক্ত হয়ে পড়া অংশে। ঢেউ এসে তীরে আছড়ে পড়ছে, আবার সরে যাচ্ছে। পানির সঙ্গে নড়ছে বালু ও ছোট ছোট খোলস। কোথাও ঝিনুকগুলো আলাদা আলাদা, কোথাও আবার স্তূপের মতো জমে আছে। লবণাক্ত বাতাস, ভেজা বালু আর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সাদা ঝিনুক— ভোরের কুয়াকাটাকে এদিন অন্যরকম মনে হচ্ছিল।
কুয়াকাটার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটককে আকৃষ্ট করলেও সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঝিনুক ও অন্যান্য সামুদ্রিক উপাদান সমুদ্রের স্বাভাবিক পরিবেশের অংশ। তাই পর্যটকদেরও সৈকতে অবস্থানের সময় পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন।
কুয়াকাটায় যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সূর্যোদয় দেখা। কিন্তু সূর্য ওঠার পর যে দৃশ্য সামনে এলো, সেটিই হয়ে উঠল ওই ভ্রমণের প্রধান অভিজ্ঞতা।
একদিকে সমুদ্রের ঢেউ, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ বালুচর। তার ওপর ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা ঝিনুক। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে মানুষের আনাগোনাও বাড়তে শুরু করে। সূর্যের আলো তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাদা ঝিনুকগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর মনে হয়, ভোরের সেই নরম আলোয় যে দৃশ্যটি দেখা গিয়েছিল, সেটি ধীরে ধীরে দিনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাচ্ছে। আমরাও তখন ফিরতি পথ ধরলাম।
জেনে রাখুন
ঢাকা থেকে সড়কপথে রাতে রওনা দিয়ে একেবারে সকালে পৌঁছে যাবেন কুয়াকাটা। নন-এসি এবং এসি দুই ধরনের বাসই পাবেন। বরিশাল বিভাগে কুয়াকাটা ছাড়াও বেশ কিছু সুন্দর সৈকত ও চর রয়েছে, যার মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার হরিণঘাটা বনসংলগ্ন চর এবং বিষখালী-বলেশ্বর নদীর মোহনায় অবস্থিত লাল কাঁকড়ার চর ও সমুদ্রসৈকত অন্যতম। এ ছাড়া পটুয়াখালীর লেম্বুরচর, ভোলার চরকুকরিমুকরি প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।



