ঈদের ছুটির সেরা ৫

সামনে ঈদের লম্বা ছুটি। ভ্রমণপ্রিয়রা ঘুরে বেড়ানোর এ সুযোগ হারাবেন না নিশ্চয়! কোথায় যাবেন এটা নিয়ে যারা সংশয়ে আছেন, তাদের জন্য লিখেছেন ইশতিয়াক হাসান
মেঘেররাজ্য সাজেক, রাঙামাটি
পাহাড় যারা ভালোবাসেন তাদের সাজেককে নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। আমার চোখে বর্ষায় সবচেয়ে সুন্দর এ পাহাড়ি জনপদ। মাসের হিসাবে সময়টা জ্যৈষ্ঠ, তবে ঋতুর চরিত্র বদলানোর খেলায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। তাই সাজেককে পাবেন সবুজই। রাঙামাটির সীমানায় পড়লেও প্রায় সব পর্যটক জনপ্রিয় এ ভ্রমণ গন্তব্যে যান খাগড়াছড়ি থেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু পথে সাজেক ভ্রমণটা সবসময় উপভোগ্য। পথে খরস্রোতা নদী এবং পাহাড়ি শিশুরা স্বাগত জানাবে।
প্রকৃতি যারা ভালোবাসেন তাদের অনেককেই অতিরিক্ত ভিড়-বাট্টার কারণে সাজেক এখন টানে কম। ২০১১ সালের সেই নীরব, আদিম সাজেকের সঙ্গে এখনকার সাজেককে মেলাতে পারি না আমিও। তবে আমার মনে হয়, মিজোরামমুখী কোনো একটি কটেজ বাছাই করে খোলা বারান্দায় বসে আদিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়-সারি দেখতে দেখতে কাটিয়ে দেওয়া যায় গোটা একটি দিন। হয়তো নিচের পাকদন্ডী ধরে কোনো পাহাড়ি নারীর জল আনার দৃশ্যে আটকে যাবে চোখ। চাইলে এ ধরনের ট্রেইল অনুসরণ করে চলে যেতে পারবেন অজানা কোনো ঝরনা বা পাড়ায়।
যা জানা জরুরি
সাজেক পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হলেও মূলত রুইলুই আর কংলাকপাড়া জুড়েই বিস্তৃত এখানকার পর্যটন। তাই ছুটির সময় কটেজগুলোতে ভীষণ চাপ থাকে। আগে থেকে বুকিং ছাড়া যাবেন না। থাকার কটেজ আর খাবার হোটেল বাছাই করুন নেটে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে। বৃষ্টি না হলে সাজেকে এ সময় প্রচণ্ড গরম। বৃষ্টি হলে পাহাড় অতুলনীয় হলেও চলাফেরায় সতর্কতা দরকার।
আমবাগান, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ
এবার ঈদের ছুটিটা সৌভাগ্যক্রমে পড়ে গেছে আমের মৌসুমে। তাই এ সময় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগান ভ্রমণ একটি চমৎকার পরিকল্পনা হতে পারে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, শিবগঞ্জ এবং রাজশাহীর পুঠিয়া ও বাঘা এলাকায় বিশাল সব আমবাগান রয়েছে। এগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে পারবেন। সব বাগান আর গাছভর্তি আম দেখা এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা হবে। পাবেন তাজা আম কেনার সুযোগও।
যা জানা জরুরি
রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি একটু কম হয়, গরমও বেশি। তাই সতর্কতা জরুরি। তবে ঈদের পর এখানে যাওয়ার বাস-ট্রেনের টিকিট মেলবে তুলনামূলক সহজে। আমবাগানের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনামসজিদ, ঐতিহাসিক দারাসবাড়ি মসজিদ ও ধনাই দিঘি ঘুরে দেখতে পারেন।
বগা লেক-কেওক্রাডং, বান্দরবান
একটা সময় বান্দরবান শহর থেকে কেওক্রাডং পর্যন্ত গোটা পথ হেঁটে যেতে হতো। তারপর বগা লেক পর্যন্ত রাস্তা হলো। এখন তো একেবারে কেওক্রাডং পর্যন্ত পিচ ঢালাই রাস্তা। এতে পাহাড়রাজ্যে কিছুটা কৃত্রিমতা ভর করেছে। তারপরও পাহাড় কেটে চলে যাওয়া রাস্তা ধরে চান্দের গাড়িতে এ পথে ভ্রমণটা এখনো হতে পারে মনোমুগ্ধকর। বগা লেকের পাড়ে একটি রাত কাটাতে পারেন। বিশেষ করে যাদের প্রথম সফর চান্দের গাড়িতে খাড়া একটা ঢাল পেরিয়ে হঠাৎ নীল জলের হ্রদ দেখে অভিভূত হবেন। কেওক্রাডং যাওয়ার ঠিক আগে পাদদেশের দার্জিলিংপাড়া কিছুটা সময় দাবি করে আপনার। এখানে রাত কাটানোর সুযোগ থাকলে বলতাম কেওক্রাডং দেখে রাতটা এখানে কাটাতে। তবে কেওক্রাডং পর্বতে রাত কাটানোর দুটি সুবিধা আছে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে রাতে তারার মেলা দেখা আর ভোর থেকে মেঘের সৌন্দর্য উপভোগ। এখান থেকে চারপাশের বিশাল এলাকার পাহাড়-সমতল চোখের সামনে চলে আসে। তবে পীড়া দেবে পাহাড়টির মালিক লালা বমের কদাকার চেহারার তিনতলা হোটেল। বেশিরভাগ পর্যটক এখানে থাকেন।
যা জানা জরুরি
কেওক্রাডং ভ্রমণে গাইড বাধ্যতামূলক। যদিও রাস্তা পাকা হওয়ার পর এটা আসলে না নিলেও চলত। ভালো একজন গাইড ঠিক করলে তিনিই আপনার থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা করবেন। বগা লেকের আগে মুনলাইপাড়ার বম হোমস্টেতেও রাত কাটাতে পারেন। এখানে কায়াকিং ও জিপ লাইনিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের যেখানেই বেড়াতে যান. সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের কয়েকটি ফটোকপি রাখা অবশ্যকর্তব্য।
মেরিন ড্রাইভ সৈকত, কক্সবাজার
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকে। তবে ভিড়-বাট্টা একটু কম চাইলে এবং প্রকৃতিকে উপভোগ করা লক্ষ্য হলে মেরিন ড্রাইভের কোনো হোটেল বা রিসোর্টে উঠতে পারেন। হিমছড়ি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটারের দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে গেলে অসংখ্য সুন্দর ও নির্জন সৈকতের দেখা পাবেন। দরিয়ানগর সৈকত, কাকড়া বিচ, পাটুয়ারটেক সৈকত, ইনানী, শামলাপুর বা বাহারছড়া সৈকত, মনখালী বা মরিচবনিয়া উল্লেখযোগ্য।
যা জানা জরুরি
মেরিন ড্রাইভে গেলে পাহাড়প্রেমীরা মিনি বান্দরবান নামে পরিচিত জায়গাটিতে ঘুরে আসতে ভুল করবেন না। কক্সবাজারে যখন যাবেনই সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপের জন্য কিছু সময় হাতে রাখতে পারেন।
টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ
বৃষ্টি
যেহেতু শুরু হয়েছে, এই
ঈদের ছুটিতে টাঙ্গুয়ার হাওর অনেকের যে
প্রথম পছন্দ হবে তাতে অবাক
হওয়ার কী! মেঘালয়ের পাহাড়
আর নীল জলরাশি একাকার
হয়ে গেছে এখানে। বর্ষায়
একে বিশাল সমুদ্রের মতো দেখায়, যেখানে
নীল আকাশের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় স্বচ্ছ
জলে। হাওরের সঙ্গে স্বচ্ছ জলের নীলাদ্রি লেক,
যাদুকাটা নদী এবং শিমুলবাগান
মিলিয়ে ভ্রমণটা স্মরণীয় হবে সন্দেহ নেই।
যা জানা জরুরি
এখন টাঙ্গুয়ার হাওরে বিলাসবহুল অনেক হাউজ বোট নামানো হয়েছে। সব হাউজ বোট যে সার্ভিস ভালো দেবে তার নিশ্চয়তা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রিভিউ নিয়ে বোট বাছাই করলে আশা করি বিপদে পড়বেন না। ঢাকা থেকে সড়কপথে সুনামগঞ্জে যাত্রা খুব আনন্দদায়ক নয়। তাই এ অসুবিধার জন্য মানসিক প্রস্তুতি জরুরি।










