সায়েন্স ফিকশন
ভবিষ্যতের সাইবারপাঙ্ক দুনিয়া

সায়েন্স ফিকশন ও সাইবারপাঙ্ক জনরাপ্রেমীদের মধ্যে সাড়াজাগানো সিরিজ নেটফ্লিক্সের অল্টার্ড কার্বন। রিচার্ড কে মরগানের একই নামে জনপ্রিয় উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিরিজ মানব সভ্যতার এক সুদূর ভবিষ্যতের অন্ধকার রূপ উন্মোচন করে, যেখানে অমরত্ব শুধু ধনীদের একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হয়েছে।
কাহিনির মূল প্রেক্ষাপট ভবিষ্যতে মানুষের চেতনা বা মনন একটি ছোট যন্ত্রের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব, যাকে বলা হয় ‘কোর্টিক্যাল স্ট্যাক’। এই স্ট্যাক মানুষের শরীরের ভেতরে বা বাইরে স্থাপন করা যায়। ফলে শরীর বা ‘স্লিভ’ নষ্ট হয়ে গেলেও চেতনা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে এবং তা নতুন শরীরে প্রতিস্থাপন করা যায়। শতাব্দী ধরে চলতে থাকা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর অতিধনী শ্রেণি— যাদের ‘মেথ’ বা মেথুসালাহ বলা হয়— শারীরিক মৃত্যুকে প্রায় জয় করে। তারা শত শত বছর ধরে নিজেদের চেতনা নতুন ও তরুণ শরীরে স্থানান্তর করে অফুরন্ত ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বেঁচে থাকে।
কাহিনি নতুন বাঁক নেয় যখন তাকেক কোভাচ নামের একজন দক্ষ বিদ্রোহী সেনাকে দীর্ঘ আড়াইশ বছর পর একটি নতুন শরীরে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী এক ধনী ব্যক্তি লরেন্স ব্যানক্রফট তাকেক কোভাচকে একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের কিনারা করার দায়িত্ব দেন। ব্যানক্রফট নিজেই নিজের আগের মৃত্যুরহস্য সমাধান করতে চান, কারণ তার সে সময়ের কোনো স্মৃতি বর্তমান মস্তিষ্কে নেই। এই তদন্তের সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি ও মানবতার অবক্ষয়ের চিত্র।





