প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬: চ্যাম্পিয়ন থট পুলিশ, পুরস্কার পেল সেরা ১০ দল

তরুণদের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ডেটা প্রাইভেসি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে থট পুলিশ। প্রথম রানার-আপ হয়েছে এজেন্টওয়ান ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে সেড পিপল। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা মোট পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার জিতেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় রবির করপোরেট কার্যালয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা এবং এ বিষয়ে নতুন ও কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে তাদের উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে রবির চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে তারা।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপের মূল্যায়ন শেষে সেরা ২০টি দল ‘প্রাইভেসি ডিফেন্ডার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে সেরা ১০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো—সিভ ভোডার্স, থট পুলিশ, এজেন্টওয়ান, সেড পিপল, সিইউ-ইটি-ই এনক্রিপটেড ওয়েভস, এইজাকমি, টিম সাদ্দু, টিম ব্ল্যাক কফি, দ্য সাইফার গার্লস ও প্রজেক্ট রেড স্কাই।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গ্রাহকের আস্থা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, “আমরা চাই, তরুণেরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না, বরং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন সমাধান তৈরি করবে। তরুণদের এই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা আরও সহজ হবে। ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ তরুণদের সেই সক্ষমতা বিকাশের একটি কার্যকর উদ্যোগ।”
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন বলেন, “প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬-এর মতো উদ্যোগ তরুণদের ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে নতুন ও কার্যকর সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করছে। আমরা আশা করি, সরকার, শিল্পখাত এবং তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে উঠবে।”
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, “বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু একটি নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল আস্থা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও ক্রমাগত বাড়ছে। ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ উদ্যোগ এবং ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্মকে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রবির সপ্তাহব্যাপী ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ব্যবসায়িক অংশীদার, গ্রাহকসেবা ও কলসেন্টারের কর্মী, সরবরাহকারী এবং পরিবেশকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আলোচনা, কুইজ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
রবির মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা কেবল আইন মেনে চলার বিষয় নয়, এটি সবার দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে তারা।



